সানি সরকার, শিলিগুড়ি : হিন্দি ভাষাকে সারাদেশের বাঁধন হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন অমিত শা। যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের ঢেউ আছড়ে পড়ার পর নিজের অবস্থান থেকে কিছুটা পিছু হঠার ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু নিউ জলপাইগুড়ি জংশন থেকে যেভাবে বাংলা ভাষা উধাও হচ্ছে, তা নিয়ে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গই সামনে আসছে। কেন তিন ভাষা নীতি মানবে না রেল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও। তবে, ভাষা বিলুপ্তির কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই বলে দাবি করেছেন রেলকর্তারা। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শুভানন চন্দ বলেন, বাংলা ভাষা তুলে দেওয়ার কোনো ভাবনা নেই। কেন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের ডিসপ্লে বোর্ডে বাংলা নেই, তা নিয়ে কথা বলব সেখানকার আধিকারিকদের সঙ্গে।

তিন ভাষা নীতি মানা হয় দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। স্থানীয় ভাষাকে প্রাধান্য দিতে তা লেখা হয় সবার ওপরেই। এই নীতি দীর্ঘ বছর ধরে মানা হচ্ছিল নিউ জলপাইগুড়ি জংশনেও। কিন্তু শম্বুকগতিতে হলেও নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের ডিসপ্লে বোর্ডগুলি থেকে উধাও হচ্ছে বাংলা ভাষা। নিউ জলপাইগুড়ি জংশনের বাইরে নামফলকে বড়ো হরফে বাংলা থাকলেও, স্টেশনের অধিকাংশ প্ল্যাটফর্মেই নেই এই রাজ্যের মাতভাষা। সর্বত্রই হিন্দি এবং ইংরেজির হরফ। স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মেই রয়েছে স্টেশনমাস্টার, আরপিএফ ব্যারাক থেকে নানা গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকের কার্যালয়। কিন্তু কার্যালয়গুলির ডিসপ্লে বোর্ডে নেই বাংলা ভাষা। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওযে প্ল্যাটফর্মের দিকনির্দেশক বোর্ডেও শুধু ইংরেজি এবং হিন্দির দাপাদাপি। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম এবং হাসমিচক সংলগ্ন সিটি বুকিং কাউন্টার থেকেও গত এক মাসের মধ্যে উধাও হয়েছে বাংলার হরফ। কিন্তু কেন তিন ভাষা নীতি মানা হচ্ছে না বা রেলের খাতায় গুরুত্ব হারাচ্ছে বাংলা ভাষায় রেলের প্রাক্তন সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার ধ্রুব সরকারের বক্তব্য, অমিত শা-র ভাষণে যা শোনা গিয়েছিল, তারই বাস্তবায়ন ঘটছে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। সুকৌশলে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চেষ্টা করা হচ্ছে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ গঠনের। রেলের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে শিক্ষাবিদদের মধ্যেও। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক দিলীপ সরকার বলেন, বহুত্ব ভাষার দেশ ভারত। প্রত্যেক ভাষাকে আমরা সম্মানের কথা বলি। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে বাংলা ভাষাকে মুছে ফেলার চেষ্টা কখনোই সমর্থন করা যায় না। বাংলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি। যেভাবে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের ডিসপ্লে বোর্ড থেকে বাংলা ভাষাকে তুলে দেওয়া হযেছে, তার তীব্র নিন্দা করেছেন বঙ্গীয় নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আশিস ঘোষ। তিনি বলেন, হিন্দি বা ইংরেজির সঙ্গে বাংলা ভাষায় হরফ থাকাটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এনজেপিতে যা করা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ডিসপ্লে বোর্ডে বাংলা না থাকায় যাত্রীদের প্রচুর সমস্যা হচ্ছে বলে জানান ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থাকা একটি বুকস্টলের মালিক। তিনি বলেন, অনেকেই হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষা পড়তে পারেন না। ফলে কোথায় কী রয়েছে তা তাঁরা বুঝতে পারেন না।  প্রায় প্রতিদিনই আমাদের জানাতে হচ্ছে তাঁদের প্রশ্নের উত্তর।