আলিপুরদুয়ারে ব্লাড সেপারেশন ইউনিট তৈরি হয়নি

বাপি দাস, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ারে ব্লাড সেপারেশন ইউনিট তৈরি না হওয়ায় জেলায় রক্তের জোগানের ক্ষেত্রে খামতি দেখা দিচ্ছে। জেলায় তিনটি ব্লাড ব্যাংক থাকলেও ব্লাড সেপারেশন ইউনিট নেই। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহ জেলার মানুষের দাবি, একটি ব্লাড সেপারেশন ইউনিট তৈরি হলেও এই সমস্যা অনেকটা মিটবে। যদিও আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল সূত্রে খবর, সেখানে একটি ব্লাড সেপারেশন ইউনিট তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শব্দর সম্পাদক অভিজিৎ সরকার জানান, সম্প্রতি লকডাউনের জেরে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা কমে গেলেও সারাবছর আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে প্রচুর রক্তদান শিবির হয়। কিন্তু, ব্লাড সেপারেশন ইউনিটের অভাবে প্রচুর রক্ত সংগ্রহ করা গেলেও রক্তের বিভিন্ন উপাদান আলাদা করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রয়োজন অনুয়ায়ী রক্তের নির্দিষ্ট উপাদান না দিয়ে রোগীর দেহে সম্পূর্ণ রক্তই দিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে যেমন রক্তের ঘাটতি দেখা দেয়, তেমনই রোগীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ফাঁক থেকে যায়। বিশেষ করে থ্যালাসিমিয়া, ডেঙ্গি সহ বেশ কয়েকটি রোগে আক্রান্তরা সমস্যায় পড়ছেন। এই ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে শুধু প্লেটলেটের প্রয়োজন হলেও ব্লাড সেপারেশন পদ্ধতির অভাবে রোগীকে সম্পূর্ণ রক্তই দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীর দেহে রক্তের অন্য উপাদানের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

- Advertisement -

ব্লাড সেপারেশন পদ্ধতি চালু থাকলে এই সমস্যা থাকবে না। ব্লাড সেপারেশন ইউনিট তৈরি হলে এক ইউনিট রক্তকে অন্তত সাতটি ভাবে ভাগ করা সম্ভব হবে। অভিজিৎবাবু বলেন, ব্লাড সেপারেশন ইউনিট চালু হলে রক্তের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ফারাক যেমন কমবে। আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের বাসিন্দা দীনেশ তিরকি থ্যালাসিমিয়ায় আক্রান্ত। তিনি বলেন, ব্লাড সেপারেশন ইউনিট চালু হয়ে গেলে সমস্যা হয়তো কিছুটা কমবে। আলিপুরদুয়ার গণজাগরণ মঞ্চের সম্পাদক নবকুমার ভট্টাচার্য বলেন, বহুবার দাবি জানানো হলেও জেলায় ব্লাড সেপারেশন ইউনিট চালু হয়নি। আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের সুপার চিন্ময় বর্মন বলেন, আলিপুরদুয়ার ব্লাড ব্যাংকের একটা অংশেই ব্লাড সেপারেশন ইউনিট চালু করা হবে। প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তবে লকডাউনের কারণে সব মেশিন এসে পৌঁছায়নি। তাই দেরি হচ্ছে।