ঘোরাল হচ্ছে বন্যা, ভেলাই ভরসা বানভাসিদের

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : বাঁধ ভেঙে গ্রামে ঢুকছে নাগর, নোনা নদীর জল। জলবন্দি হয়ে রয়েছে কয়েকশো পরিবার। কিন্তু গ্রামগুলিতে দেখা দিয়েছে নৌকার অভাব। বাধ্য হয়ে নৌকার অভাবে কলার ভেলায় পারাপার করছেন বানভাসিরা। স্থানীয়দের কথায়, একটা সময় ছিল যখন উত্তর দিনাজপুর জেলার নদীগুলির ঘাটে ঘাটে নৌকা থাকত। নৌকা দিয়ে নদী পারাপার করতেন মানুষজন। কিন্তু বেশিরভাগ ঘাটগুলিতে পাকা সেতু হয়ে গিয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় সেতু তৈরির কাজ চলছে। তাই মাঝে মাঝি, মল্লাদের আর দেখা যায় না। নৌকাও আর তেমন ব্যবহার হয় না। তাই আচমকাই বিভিন্ন গ্রাম জলে প্লাবিত হওয়ায় হাতেগোনা নৌকা থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বানভাসিদের অভিযোগ, প্রশাসন আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে এমনটা সমস্যা হত না।

উত্তর দিনাজপুরের জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সহ রায়গঞ্জ ব্লকের ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েত, শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত, বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েত সহ সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এখনও ত্রাণ না পৌঁছানোয় রীতিমতো ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। খাদ্য ও পানীয় জলের অভাবে দুর্গতদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে এবং ক্ষোভ ছড়াচ্ছে। বহু জায়গায় রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রায়গঞ্জ ব্লকের গৌরী বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঝিটকিয়া গ্রামে জলের তোড়ে রাস্তা ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। বানভাসিরা ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ কিংবা ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যাদুর্গত এলাকার বাসিন্দা আকতার আলি ও আজগর আলির অভিযোগ, পাঁচদিন হয়ে গেল এখনও আমরা সরকারি ত্রাণ পাইনি।

- Advertisement -

ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ ব্লকে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ বন্যা পরিস্থিতির কবলে পড়েছেন। কিছু কিছু জায়গায় বন্যার জল নামতেই গবাদিপশুর রোগ ছড়াতে শুরু করেছে। গোরু, মোষ এবং ছাগলের রোগের খবর আসতে শুরু করেছে জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরে। আর খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে নেমেছেন প্রাণীসম্পদ দপ্তর আধিকারিকরা। জেলার বিভিন্ন গ্রাম গ্রামান্তরে ক্যাম্প করে গবাদিপশুর চিকিৎসা শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে প্রাণীসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সমীক্ষায় নেমেছে দপ্তর। শুধু গোরু, ছাগল, মহিষই নয়, বন্যা পরিস্থিতির জেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে জেলার পোল্ট্রি ফার্মগুলির। রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা বলেন, নাগর ও নোনা নদীর জলে নতুন করে জলমগ্ন হয়েছে গোবিন্দপুর, খারি শরিয়াবাদ, পশ্চিম গোবিন্দপুর, পাঁচভায়া সহ একাধিক গ্রাম। অধিকাংশ বাড়ি জলমগ্ন হাওয়ায় বানভাসিরা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।