দুবছরেও সেতু হয়নি, এবারও পুজোয় জঙ্গলবন্দি থাকবেন রাভারা

339

সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট : আলিপুরদুয়ারের শালকুমারহাটের রাভাবস্তিতে দুর্গাপুজো হয় না। জঙ্গল পেরিযে লোকালয়ে এসে পুজোর দিনগুলিতে আনন্দে মেতে ওঠেন এই বস্তির বাসিন্দারা। কিন্তু গতবারের মতো এবারও লোকালয়ে এসে পুজো দেখা হবে না রাভাদের। যে রাস্তা ধরে রাভাবস্তির বাসিন্দারা লোকালয়ে আসেন সেই রাস্তায় থাকা কাঠের সেতুটি দুবছর আগে ভেঙে গিয়েছে। বিকল্প রাস্তায় থাকা অপর সেতুটিও ভাঙাচোরা। সন্ধ্যার পর তাই তাঁদের জঙ্গলে বন্দি হয়ে থাকতে হয়। বুনো জন্তুর আতঙ্কে জঙ্গলের রাস্তা তাঁরা রাতের দিকে এড়িযে চলেন। ফলে এবারও পুজোর আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে রাভাবস্তিতে। জলদাপাড়া বন দপ্তর ও প্রশাসনের কর্তারা ভাঙা সেতুটি কবে তৈরি হবে সে ব্যাপারে কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। শালকুমার-২ গ্রাম পঞ্চাযে প্রশাসনের দাবি, চলতি অর্থবর্ষের বার্ষিক অ্যাকশন প্ল্যানে ওই সেতুর প্রস্তাব পাঠানো রয়েছে। তবে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের বিডিও শ্রেয়সী ঘোষ বলেন, অ্যানুয়াল অ্যাকশন প্ল্যানে ওই সেতুটি ধরা থাকলে অবশ্যই কাজ হবে। বিষয়টি কী অবস্থায় রয়েছে খতিযে দেখব।

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমার-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রাভাবস্তিতে ৮৩টি রাভা পরিবার রয়েছে। লোকসংখ্যা ৫০০-রও বেশি। জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জের শালকুমারহাট বিট অফিসও এই বস্তিতে। জঙ্গলঘেরা এই বনবস্তিতে লক্ষ্মী ও কালীপুজো বড়ো করে হলেও দুর্গাপুজো হয় না। রাভাদের মধ্যে দুর্গাপুজোর রীতি নেই। তবে দুর্গাপুজোর দিনগুলি নিরানন্দে কাটে না তাঁদের। কারণ জঙ্গল পেরোলেই তাঁরা শুনতে পান ঢাকের আওয়াজ। শালকুমারহাট-শিলবাড়িহাট রাজ্য সড়কের কলাবাড়িয়ায় সর্বজনীন দুর্গাপুজো এবার তৃতীয় বছরে পা দিল। এই পুজোমণ্ডপ থেকে রাভাবস্তির দূরত্ব প্রায় তিন কিমি। পুজো কমিটির সভাপতি রাজেন রায় ও সম্পাদক সুভাষ রায় জানান, প্রথম বছরের পুজোতেই রাভাবস্তির বাসিন্দারা শামিল হয়েছিলেন। কিন্তু সেতু ভেঙে থাকায় গত বছর রাভাদের আনাগোনা কমে যায়। এবারও সেই আশঙ্কা হচ্ছে। এছাড়া ৬-৭ কিমি দূরে শালকুমারহাট ও পলাশবাড়িতে বেশ কযেটি দুর্গাপুজো হয়। কয়েক বছর আগেও পুজোর দিনগুলিতে রাভারা নতুন জামাকাপড় পরে এইসব পুজোমণ্ডপে প্রতিমা দেখতে ভিড় করতেন। দিনের কাজকর্ম সেরে সন্ধ্যা বা রাতের দিকেই তাঁরা পুজো দেখতে আসতেন। কিন্তু গত বছর থেকেই সেই আনন্দ ফিকে হয়ে গিয়েছে।

- Advertisement -

রাভাবস্তির মদন রাভা বলেন, দুর্গাপুজো দিয়ে শুরু হবে নানা উত্সব। এই উত্সবের দিনগুলিতে গতবারের মতো এবারও আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে। গৃহবধূ মিনতি রাভা বলেন,এবারও দুর্গাপুজোর আনন্দ মাটি হযে যাবে। যে রাস্তাটি সব থেকে বেশি আমরা ব্যবহার করি সেখানেই দুবছর ধরে সেতুটি ভেঙে রয়েছে। সন্ধ্যা বা রাতের দিকে জঙ্গলের অন্য রাস্তা দিয়ে ছোটোদের নিয়ে লোকালযে পুজো দেখতে যাওয়া সম্ভব নয়। মন্টু রাভা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, গত বছর পঞ্চায়েত ভোট ও এবার লোকসভা ভোটের আগে জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও সেতু তৈরি হয়নি। তাই এবারও পুজোর সময় রাতের দিকে জঙ্গলবন্দি হযে থাকতে হবে বস্তির বাসিন্দাদের। জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জার পুলকেশ গোস্বামী বলেন, ভেঙে থাকা সেতুটি তৈরির জন্য এখনও কোনো টাকা বরাদ্দ হয়নি। তবে বস্তিবাসীর চলাচলের জন্য আরেক রাস্তায় থাকা বেহাল কাঠের সেতুটি পুজোর পরেই সারানো হবে। শালকুমার-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান উত্তম কার্জি বলেন, চলতি অর্থবর্ষের বার্ষিক পরিকল্পনা ও চতুর্দশ অর্থ কমিশনে ওই সেতুর প্রস্তাব পাঠানো রয়েছে।