সাঁকো না থাকায় নৌকোয় পারাপার, পুজোর আনন্দ নেই বড়ডোবায়

466

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : ফালাকাটার মুজনাই নদীতে এখনও সাঁকো তৈরি হয়নি। বড়ডোবা মৌজার দুই পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় আট হাজার মানুষকে নৌকোয় করে নদী পারাপার করে ফালাকাটায় এসে পুজোর কেনাকাটা করতে হচ্ছে। তাই বড়ডোবার বাসিন্দাদের পুজোর আনন্দ ফিকে। ফালাকাটা শহরের পাশ দিযে মুজনাই নদী বযে গিয়েছে। এই নদীর অন্যপাশে গুয়াবরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাটখোলা থেকে অল্প দূরত্বে দুটি পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে গঠিত বড়ডোবা জনপদ। গ্রামের কৃষক, ব্যবসাযী, ছাত্রছাত্রী সহ সকলকেই মুজনাই নদী পেরিযে শহরে আসতে হয়। ওই এলাকায় মুজনাই নদীর উপর পাকা সেতুর দাবি বহুদিনের। প্রতিবছর বর্ষার পর স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির তরফে সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়। এবারও বর্ষায় সাঁকো ভেঙে যায়। কিন্তু এবার সেটাও তৈরি না হওয়ায় পুজোর মুখে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।

বড়ডোবায় ছোটোবড়ো মিলে ৫টি সর্বজনীন দুর্গাপুজো হয়। কিন্তু বিগ বাজেটের বড়ো পুজোগুলি হয় ফালাকাটায়। কিন্তু এবার শহরের পুজো দেখতে এলে বিপাকে পড়বেন বড়ডোবার মানুষ। স্থানীয় লিপি মণ্ডল বলেন, প্রতিবার ছেলেমেয়েরা ফালাকাটায় পুজো দেখতে যাওয়ার জন্য আবদার করে। কিন্তু, এবার সাঁকো না থাকায় রাতে ফালাকাটা শহরের পুজো দেখতে যাওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। অপর এক গৃহবধূ ধীরা বর্মন বলেন, নৌকোয় পারাপার হয়ে নতুন জামাকাপড় কিনেছি। ছেলেমেয়েদের নিয়ে হয়তো দিনের আলো থাকতেই শহরের পুজো দেখে বাড়ি ফিরতে হবে। ব্যবসায়ীরাও এর ফলে ক্ষতির মুখে পড়বে। বড়ডোবার বাসিন্দা স্বপন দাসের ফালাকাটা হাটখোলায় পানের দোকান রয়েছে। তিনি বলেন, পুজোর সময় রাতের দিকে বিক্রি ভালো হয়। কিন্তু এবার সাঁকো না থাকায় তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হবে। তাই পুজোয় ব্যবসা মার খাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুরেশ লালা বলেন, ওখানে সাঁকো তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদীর জল বেড়ে যায়ওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জল কমতেই দ্রুত সাঁকোর কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি  বড়ডোবায় পাকা সেতু তৈরির ব্যাপারেও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -