সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া : ফাঁসিদেওয়ার চটহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কাশিগছ নীচন গুয়াবাড়ি দিয়ে বয়ে চলা বুড়ি বালাসন নদীতে পাকা সেতু তৈরি হয়নি। ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামের মধ্যে সংযোগ রক্ষায় একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো থাকলেও বর্ষার জলের তোড়ে সেটি ভেসে যায়। নদী পারাপারে আজকাল নৌকাই একমাত্র ভরসা। এর জেরে প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা নাজেহাল হচ্ছেন। মাস কয়েক আগে চিকনমাটির বাসিন্দা এক কিশোর নদীতে ডুবে মারা গিয়েছিল। তারপরও প্রশাসনের হুঁশ ফেরেনি। প্রশাসনের আধিকারিকরা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করলেও এখানে সেতু তৈরি করা হয়নি। কাশিগছের নীচন গুয়াবাড়ি ঘাটে সেতু তৈরি করতে বাসিন্দারা প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

চটহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমন টপ্পো বলেন, বিধাননগর-১ এবং চটহাট গ্রামের সীমান্তের মধ্যে এই নদীতে সেতু তৈরির প্রযোজন রয়েছে। কিন্তু সেতু তৈরিতে বহু টাকা লাগবে। গ্রাম পঞ্চায়েতের টাকায় কখনোই এখানে সেতু তৈরি সম্ভব নয়। বিষয়টি ইতিমধ্যেই উপরমহলকে জানানো হয়েছে। একই সুরে বিধাননগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান টুলটুলি সরকার বলেন, সেতুটি তৈরির জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। এখানে সেতু তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই সেতু তৈরির কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ বাবুল, হাসিবুল রহমান, প্রকাশ বর্মন, কাকুলি রায় প্রমুখ জানান, চলতি বছরের জুলাই মাসে এই ঘাটে তলিয়ে গিয়ে অনিল টোপ্পো নামে এক কিশোরের মৃতু্য় হয়েছিল। এরপরও প্রশাসনের হুঁশ ফেরেনি। একটি মাত্র নৌকা করে বর্তমানে নদী পারাপার চলছে। নৌকাটিতে যাত্রী তোলার পাশাপাশি বাইক, সাইকেল তোলায় যেকোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে বলে হাসিবুল সাহেবদের আশঙ্কা। পাশাপাশি, নৌকায় করে নদী পারাপারের জন্য ঘাটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে টাকা দিতে হওয়ায় অনেকে সমস্যায় পড়েছেন। সমস্যা মেটাতে তড়িঘড়ি এখানে পাকা সেতু তৈরির দাবি জোরালো হয়েছে।

বুড়ি বালাসন নদীর দুই পাড়ে চটহাট গ্রাম পঞ্চায়েত ও বিধাননগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রাম রয়েছে। নদীর ধারে থাকা এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পেটকি, সাপ্টিগুড়ি, গুয়াবাড়ি, চোজপোড়া, বিধাননগর, জয়ন্তিকা, খারলেন, বাঁশলেন, কাশিগছ, মোমিনপোড়া, চিকনমাটি সহ একাধিক গ্রামে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। তবে চটহাট বা বিধাননগরের এই গ্রামগুলিতে যাতায়াতের জন্য নদী পারাপার করতে হয়। নদীতে কোনো সেতু না থাকাতেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতদিন এখানে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ছিল। বাসিন্দারা সেটি পেরিয়ে কোনোমতে যাতায়াত করতেন। তবে এবারের বর্ষায় সেটি ভেসে যায়। এর আগেও এখানে বহুবার সাঁকো ভেসে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একমাত্র নৌকা ছাড়া নদী পারাপারের কোনো উপায় থাকে না। বর্ষা পেরোলে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এখানে ফের বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়। এই সময় সাঁকো পেরিয়ে যাতায়াতে পড়ুয়াদেরও ভোগান্তির সীমা থাকে না।