ধারসী নদীতে সেতু নেই, যাতায়াতে নৌকাই ভরসা বাসিন্দাদের

296

হরিপদ পাল, শামুকতলা : উত্তর মহাকালগুড়ি ও শামুকতলার মধ্যবর্তী ধারসী নদীর ওপর ফুটব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা পূরণ হয়নি। নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো থাকলেও বর্ষায় জলের প্রবল স্রোতে তা ভেসে যায়। এবারের বর্ষাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবছর নতুন করে আর সাঁকো তৈরি করেনি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। তাই উত্তর মহাকালগুড়ি, কোহিনূর ও ধওলাঝোরা এলাকার কয়েক হাজার মানুষের নদী পারাপারের জন্য একমাত্র ভরসা নৌকা।

মহাকালগুড়ি পঞ্চায়েতের উত্তর মহাকালগুড়ি মৌজা ও শামুকতলা বাজারের মাঝখান দিয়ে বইছে ধারসী নদী। প্রতিদিন বহু মানুষ নৌকা করে নদী পার হন। শুক্রবার শামুকতলা হাটের দিন প্রায় তিন হাজার মানুষ নৌকা করে নদী পারাপার করেন। স্থানীয় বাসিন্দা সাধন দেবনাথ বলেন, বর্ষার সময় সাঁকো ভেঙে যায়, শীতের মরশুমে গ্রাম পঞ্চায়েতের সহায়তায় পুনরায় সাঁকো তৈরি হয়। এ বছর এখনও সাঁকো তৈরি না হওয়ায় নৌকা করেই নদী পারাপার করতে হচ্ছে। সেতু না থাকায় গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে খুব সমস্যা হয়। আরেক বাসিন্দা মদন বিশ্বাস বলেন, নদী পার হতে জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া লাগে। যাতায়াতে ১০ টাকা নৌকা ভাড়া দিতে হয়। ফলে প্রতিমাসে যাতায়াতের জন্য প্রচুর টাকা বেরিয়ে যায়। রাত ৮টার পর নৌকা চলে না। ফলে রাতে কোনো সমস্যা হলে বা কেউ অসুস্থ হলে ভীষণ অসুবিধায় পড়তে হয়। উত্তর মহাকালগুড়ির শতাধিক ছাত্রছাত্রী শামুকতলার সান্তালপুর মিশন হাইস্কুলে পড়াশোনা করে। ছাত্রছাত্রীরা নৌকায় নদী পার করে স্কুলে যায়। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।

- Advertisement -

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরখানেক আগে মহাকালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, আলিপুরদুয়ার-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি খেয়াঘাট পরিদর্শন করে এখানে ফুটব্রিজ তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখনও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। পঞ্চায়ে প্রধান অঞ্জলি বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় ধারসী নদীর খেয়াঘাটের উপর সাঁকো তৈরির দাবিপত্র পেয়েছি। খুব তাড়াতাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হবে। আলিপুরদুয়ার-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনুপ দাস বলেন, ফুটব্রিজের প্রস্তাব জেলাপরিষদের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু জেলাপরিষদ এখনও কোনো পদক্ষেপ করেনি। তবে জরুরি ভিত্তিতে বাঁশের সাঁকো তৈরি করার কথা প্রধানকে বলব।