মহানন্দা পারাপারে নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা

127

মুরতুজ আলম, সামসী : বছর ঘোরে, কিন্তু সেতুর দাবি আর মেটে না। ফলে স্বাধীনতার সাত দশক পরেও মহানন্দা পেরতে নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা চন্দ্রপাড়ার বাসিন্দাদের।

খানপুরে থাকেন শিক্ষক মোতিউর রহমান। একরাশ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিশ্রুতিতে আর ভুলছি না। খানপুর ঘাটে সেতুর দাবিতে গ্রামবাসীরা এখন এককাট্টা। আগামী বিধানসভা ভোট বয়কটেরও চিন্তাভাবনা করছেন অনেকে। তিনি আরো বলেন, খানপুর ঘাটে সেতু তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু তা পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীদের মধ্যে। খানপুর ঘাটে কবে সেতু হবে, তার সঠিক উত্তর কারো জানা নেই। ওই ঘাটে সেতু না থাকায় নদী পারাপারে খুব সমস্যায় পড়েছেন এলাকার হাজার হাজার মানুষ। সেতুর অভাবে হাট, বাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ইত্যাদি যেতে খুব সমস্যা হয় এলাকার বাসিন্দাদের। স্বাস্থ্যকর্মী, অফিসকর্মী বা ব্যাংককর্মী সকলেই যাতায়তে সমস্যায় পড়েন। মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও সমস্যা হয়।

এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, মহানন্দা নদীর ওপর খানপুর ঘাটে সুখা মরশুমে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করেন এলাকার মানুষ। আর বর্ষাকালে ভরা নদীতে ছোট্ট একটি ডিঙি ভরসা। অতিরিক্ত যাত্রী বহন করার ফলে নৌকাডুবির আশঙ্কাও থাকছে সর্বক্ষণ। তিনি বলেন, ওই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা ছাড়াও পার্শবর্তী জালালপুর, শ্রীপুর এক এবং নদীর ওপারের উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার থানা এলাকার জয়হাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষও যাতায়ত করে থাকেন।

নেমি নওয়াজ নামে এক বাসিন্দা বলেন, খানপুর ঘাটে পাকা সেতু তৈরির জন্য ব্লক, জেলা প্রশাসন, বিধায়ক, সাংসদকে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। তাঁর অভিযোগ, শুধু ভোটের সময় খানপুর ঘাটে সেতু তৈরির বিষয়টি ইশ্যু হিসাবে উঠে আসে। কিন্তু ভোট ফুরোলে আর কারো দেখা মেলে না। ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার হাজার হাজার মানুষ। তাই পাকা সেতু তৈরির বিষয়ে বড়োসড়ো আন্দোলনে নামা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই আমাদের সামনে।

চাঁচল-২ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক অমিতকুমার সাউ এব্যাপারে বলেন, আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। অন্যদিকে মালতীপুরের বিধায়ক আলবিরুণী বলেন, খানপুর ঘাটে পাকা সেতু তৈরির বিষয়টি বিধানসভায় তুলেছি। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছি। বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে আবার সেতুর বিষয়টি তুলব।