শিশুদের কোলাহল নেই, উৎসবের দিনে নির্জন শিশুসদন

175

রায়গঞ্জ: বছরের প্রথম দিন হোমে দেখা মিলল না কোনও শিশুর। অথচ প্রতিবছর এই সময়ে আনন্দে মেতে ওঠে রায়গঞ্জের দেবীনগরে অনাথ শিশুদের হোম শিশুসদন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনশিক্ষা দপ্তরের আর্থিক সহযোগিতায় চলা আবাসিক হোম শিশুসদনে উত্তর দিনাজপুর জেলার পাশাপাশি দক্ষিন দিনাজপুর ও মালদা জেলার অনাথ শিশুরা থাকে। গত ২২ মার্চ লকডাউন ঘোষণা হতেই হোম কর্তৃপক্ষ নির্দেশকা মেনে আবাসিকদের তাদের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। যদিও অধিকাংশের পরিবার নেই। ওদের ঠিকানা শিশুসদন। প্রতিবছর নববর্ষ তাদের কাটে হোমেই। হোমের শিশুরা যাতে অন্যদের মতো এই উৎসবে সামিল হতে পারে সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। তাদের জন্য খাবারের বিশেষ মেনুর আয়োজন করা হয়। স্থানীয় কাউন্সিলার সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বছরের প্রথমদিনে হোমের শিশুদের শুভেচ্ছা জানান। সকাল থেকে আনন্দে মেতে থাকে অনাথ শিশুরা। কিন্ত এবছর একেবারে ভিন্ন ছবি হোমে। সকাল থেকেই নির্জন হোম যেন অন্য রুপ নিয়েছে।

হোমের সুপার সাধন সিংহ রায় প্রতিদিনের মতো আজও সকালে চলে আসেন। ঘুরে দেখেন চারিদিক। আবাসিকদের ঘরগুলি খুলে  দেখেন। শিশুদের জন্য বিষন্ন দেখায় আজ তাকে। শিশুদের কোনো কোলাহল নেই। মূল গেটে নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। দু’জন সাফাইকর্মী তাদের কাজ করছেন। সুপার সাধনবাবু বলেন, ‘বাংলার নতুন বছরে হোম এমন জনশূন্য থাকবে ভাবতে পারছি না।কারণ এ দিনে শিশুরা সকাল থেকে আনন্দে মেতে থাকে। বাইরে থেকে কত মানুষ আসে শিশুদের শুভেচ্ছা জানাতে। করোনা ভাইরাস এবারে সব কেড়ে নিল। কবে আবার তারা হোমে ফিরে আসবে বুঝতে পারছি না। গত ২২ মার্চ শিশুদের আত্মীয়স্বজনেরা বাড়ি নিয়ে গেছে। খুব কষ্টের মধ্যে ওরা আছে। কারন এটাই ছিল তাদের পরিবার।’ এদিকে শিশুদের নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছেন শিশুসদনের সম্পাদক তথা রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত। প্রতিটি উৎসব অনুষ্ঠানে হোমে এসে শিশুদের মিস্টিমুখের পাশাপাশি ভুড়িভোজের আয়োজন করেন তিনি।

- Advertisement -