বীরপাড়ার প্রাণকেন্দ্রে নেই শৌচাগার, পানীয় জলের ব্যবস্থা অমিল 

132

বীরপাড়া, ৪ ফেব্রুয়ারিঃ আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার কেন্দ্রস্থলে পুরোনো বাস স্ট্যান্ড চত্বরে শৌচাগার না থাকায় অলিগলিতেই শৌচকর্ম সারছেন হাজার হাজার মানুষ। বাড়িঘর, অফিসের সীমানাপ্রাচীরে লোকজন শৌচকর্ম করায় তা গড়িয়ে জমা হচ্ছে রাস্তাতেই। পথ চলতি লোকজন অনেকেই চলাফেরা করছেন নাকে রুমাল চাপা দিয়ে।

বীরপাড়ার পুরোনো বাস স্ট্যান্ডে বাস ঢোকে না। শুধু ম্যাক্সিক্যাব ঢোকে। মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের ১০টি  গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা রয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে ১৯টি চা বাগান। এতগুলি এলাকার হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা, কেনাকাটা সহ নানা কাজে ভিড় করেন বীরপাড়ায়। অথচ, পুরোনো বাস স্ট্যান্ড চত্বরে কোনও শৌচাগারই নেই। এমনকি পানীয় জলেরও কোনও ব্যবস্থা নেই। স্বাভাবিকভাবেই, সাধারণ মানুষকে শৌচকর্ম করা ও পানীয় জলের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলির ওপর।

- Advertisement -

পুরোনো বাস স্ট্যান্ড চত্বর থেকে প্রায় আড়াইশো মিটার দূরে বছর পাঁচেক আগে একটি শৌচাগার তৈরি করে পূর্ত দপ্তর। তবে, সেটি আজও চালু করা হয়নি। একটিমাত্র শৌচাগার রয়েছে বীরপাড়ার দিনবাজারে। স্বাভাবিকভাবেই, লোকজন বীরপাড়ার নানা জায়গার পথে-ঘাটে শৌচকর্ম করায় দূষণ ছড়াচ্ছে বীরপাড়ায়। পথেঘাটে শৌচকর্মের দৃশ্য চোখে পড়ায় অস্বস্তিতে পড়ছেন মহিলারা।

বীরপাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সুশীল আগর‍য়াল বলেন, “শৌচাগার ও পানীয় জলের জন্য বহিরাগত লোকজন নির্ভর করেন রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলির ওপর। সবচেয়ে সমস্যায় ভুগছেন মহিলারা।” পুরোনো বাস স্ট্যান্ড চত্বরের একটি মিষ্টির দোকানের মালিক অশোক জৈন বলেন, “অনেকেই দোকানের শৌচাগার ব্যবহার করেন। এ ব্যাপারে তো আপত্তি করা সম্ভব নয়। তবে এলাকায় পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা উচিৎ।”

বীরপাড়া ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রমেশ মন্ডল বলেন, “আগে পুরোনো বাসস্ট্যান্ড চত্বরে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। পাইপলাইন নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, সেখানে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পুরোনো বাস স্ট্যান্ড চত্বরে ফের পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। এতদিন নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যায় সেখানে শৌচাগার তৈরি করা যায়নি। তবে মহাত্মা গান্ধী রোডের দু’পাশে নিকাশি নালা নির্মাণের চলছে। সেগুলি নির্মাণের কাজ শেষ হলেই শৌচাগার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।