তৃণমূল উপসমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

143

বামনগোলা: একুশের ভোটের আগে বামনগোলায় অন্তর্কোন্দলে জেরবার শাসক দল৷ প্রথমে দলের পাঁচ অঞ্চল সভাপতির যৌথ পদত্যাগ, তারপর দলীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপসমিতির বিরুদ্ধে তৃণমূল সদস্যদের একাংশের অনাস্থা প্রস্তাব পেশ৷ সম্প্রতি বিরোধী শূন্য তৃণমূলের দখলে থাকা মদনাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের একাংশ তৃণমূল উপসমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে চিঠি দেন বিডিওকে৷ তার ভিত্তিতে ৮ জানুয়ারি তলবি সভা আহ্বান করেন বামনগোলার বিডিও সঞ্জিৎ মণ্ডল৷ কিন্তু এরপরই উপসমিতির সদস্যরা এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন। স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট পিটিশন দাখিল করেন৷ সেই আবেদনের ভিত্তিতে তলবি সভার ওপর আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট৷  ফলে শুক্রবার নির্ধারিত তলবি সভার আয়োজন করা যায়নি৷ সে ব্যাপারে বিডিওর স্বাক্ষরিত নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে। অনাস্থা নিয়ে টানটান উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত অনাস্থা আপাতত স্থগিত হওয়ায় পরবর্তী কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নিতে অনাস্থা প্রস্তাবকারীদের বৈঠক চলছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও দলের একাংশের অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ক্ষুব্ধ মদনাবতী গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান৷

গ্রাম প্রধান নির্বাচিত হন রঞ্জিতা হালদার মজুমদার৷ পঞ্চায়েতের নিয়ম মেনে প্রধানকে আর্থিক সহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য গঠিত হয় চার সদস্য নিয়ে গঠিত উপ সমিতি৷ উপ সমিতির সদস্যরা সঞ্চালক নামে পরিচিত। পঞ্চায়েতের কাজে যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে এই উপ সমিতির। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা যায়, কয়েকমাস থেকে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রধানের সঙ্গে মতানৈক্য দেয় একাধিক পঞ্চায়েত সদস্যের৷ রঞ্জিতা দেবীকে প্রধানের পদ থেকে অপসারণ করতে তৎপর হয় দলীয় সদস্যদের একাংশ৷ কিন্তু পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী আড়াই বছরের আগে কোনও নির্বাচিত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা যায় না৷ সেই প্রস্তাব আনা হলেও আইন অনুযায়ী তা খারিজ হয়ে যায়৷ এদিকে যে কোনও সময় বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে৷ তাই এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের ক্ষমতায় রাশ পড়াতে বিরোধী সদস্যরা কিছুদিন আগে এই পঞ্চায়েতের উপ সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন৷ সেই চিঠি জমা পড়েছে বামনগোলা ব্লক প্রশাসনের কাছে। তার ভিত্তিতে ৮ জানুয়ারী তলবি সভা ডাকেন বিডিও।

- Advertisement -

গোটা ঘটনা নিয়ে এদিন দলের ব্লক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ গোপন করেননি মদনাবতী গ্রাম পঞ্চায়েত পঞ্চায়েত প্রধান রঞ্জিতা হালদার মজুমদার। রঞ্জিতাদেবী বলেন, উপসমিতির বিরুদ্ধে আনা অনাস্থার তলবি সভা ছিল শুক্রবার৷ গত ২২ তারিখও একবার এই সভা ডাকা হয়েছিল৷ কোনও কারণে সেই সভা স্থগিত হয়েছিল৷ হাইকোর্টের নির্দেশে এদিনের তলবি সভা স্থগিত করা হয়েছে৷ বিডিও চিঠি আমাকে সেকথা জানিয়েছেন৷ আমাদের পঞ্চায়েতের ১৯টি আসনের সঙ্গে পঞ্চায়েত সমিতির তিনটি আসনেই তৃণমূলের সদস্য৷ তবুও দলের কিছু লোক ভেতরে ভেতরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বারবার এই পঞ্চায়েতের উপ সমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার চেষ্টা করছে৷ বামনগোলা ব্লক তৃণমূল সভাপতি অশোক সরকার সবই জানেন৷

এর আগে তিনি সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, দলের কিছু পঞ্চায়েত সদস্যের নাকি উপ সমিতি চালানোর শখ হয়েছে৷ এই শখ কীভাবে হয়, আমি জানি না৷ আলোচনা করে দলের অনুমতিতেই নাকি এই অনাস্থা আনা হয়েছে৷ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা। এরকম কোনো আলোচনাই হয় নি।  যেখানে একুশের নির্বাচনের আগে দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে বলেছেন৷ সেখানে অশোকবাবু দলের অনুমতিতে অনাস্থা আনার কথা কেন বলছেন সেটাও জানি না৷ একক সংখ্যাগরিষ্ঠ পঞ্চায়েতে অনাস্থার অনুমোদনের কথা বলে কার্যত নিজেদের মধ্যে অনৈক্যের বার্তা দেওয়া হচ্ছে সকলের মধ্যে। একুশে নির্বাচনের আগে তৃণমূল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অনৈক্যের এই বার্তাকে প্রচারের হাতিয়ার করার সুযোগ পাবে। এমন ঘটনায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিজেদের মধ্যে অন্তরদ্বন্দে  একুশের ভোটের আগে কীভাবে আমরা মানুষের সামনে দাঁড়াব সেটাও আমার জানা নেই৷ আমি এনিয়ে দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সব জানাব৷

বামনগোলা ব্লক তৃণমূল সভাপতি অশোক সরকার এদিনও বলেন, মদনাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপসমিতির বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৮ জানুয়ারী তলবি সভা ছিল৷ কিন্তু যে উপসমিতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ছিল, তাঁরা মামলা করেছিলেন৷  হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত অনাস্থার তলবি সভা বামনগোলা ব্লক প্রশাসন স্থগিত করে দিয়েছে৷ অনাস্থা প্রস্তাবকারীরা দলের সঙ্গে আলোচনা করেই এই অনাস্থা এনেছিলেন। এখন যদি কেউ অস্বীকার করেন তাহলে কিছু বলার নেই। এদিন বামনগোলার  বিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র মদনাবতী গ্রামে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের দেওয়ালে সাঁটা বিডিওর স্বাক্ষরিত নোটিশে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে ৮ জানুয়ারির তলবি সভা স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে৷ এদিনের তলবি সভা আপাতত স্থগিত হলেও মদনাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের এই অস্থির পরিস্থিতি কি চলতেই থাকবে, না কোনও বিহীত হবে। অথবা এই পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে শেষ হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলের মানুষজনের মধ্যে চলছে জোর চর্চা।