দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা, শোরগোল তৃণমূলের অন্দরে

153

গঙ্গারামপুর: দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনল শাসকদলেরই উপপ্রধান সহ ১০ পঞ্চায়েত সদস্য। ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূলের অন্দরেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ঘটনায় অনেকে আবার গোষ্ঠী কোন্দলের ছায়া দেখছেন। ঘটনাটি গঙ্গারামপুর ব্লকের চালুন গ্রাম পঞ্চায়েতের।

বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৩টি আসনেই জয় পেয়ে চালুন গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল করে তৃণমূল। প্রধানের পদে বসেন মেহেরুন খাতুন বিবি। উপপ্রধান পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন ঝন্টু সরকার। শুরুতে সব ঠিকঠাক থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে টেন্ডারকে ঘিরে প্রধানের সঙ্গে পঞ্চায়েত সদস্যদের গোল বাঁধে বলে খবর। অভিযোগ, সেই ঘটনার পর থেকেই গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে পা রাখেন না প্রধান। ফলে থমকে উন্নয়নের কাজ। এমতবস্থায় গত শুক্রবার উপপ্রধান সহ ১০ জন পঞ্চায়েত সদস্য একজোট প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। লিখিতভাবে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা হয় বিডিওর কাছে। অনাস্থা প্রস্তাব হাতে পাওয়ার পর বুধবার ১০ জন পঞ্চায়েত সদস্যদের তলব করেন বিডিও দাওয়া শেরপা।

- Advertisement -

চালুন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য শিবু হাঁসদা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের পঞ্চায়েতে কোনওরকম কাজকর্ম হয় না। তাই অনাস্থা।’ অপর এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মাহাবুর আলি অভিযোগ করে বলেন, ‘২৮ জানুয়ারি আমাদের একটা টেন্ডার ছিল। আমরা চাইছিলাম টেন্ডারটা ওপেন হোক। কিন্তু প্রধান তা গোপনভাবে করার চেষ্টা করেছিলেন। এনিয়ে গোল বেঁধেছিল। সেদিনের পর থেকেই প্রধান গ্রাম পঞ্চায়েতে আসেন না। সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন আমাদের। কিন্তু, আমরা পরিষেবা দিতে পারছি না। তাই অনাস্থা ডাকা হয়েছে। আমরা চাইছি নতুন প্রধান গঠন করা হোক।’

এবিষয়ে প্রধানের তরফে কোনও মন্তব্য মেলেনি। তবে, গঙ্গারামপুরের বিডিও দাওয়া শেরশা বলেন, ‘চালুন গ্রাম পঞ্চায়েত ১৩টি সংসদ। গত শুক্রবার ১০ জন সদস্য অনাস্থা জমা দিয়েছিলেন। আজ তাঁদের ডেকে হেয়ারিং করা হল।’