রণজিত্ বিশ্বাস, রাজগঞ্জ : শ্মশানঘাট না থাকায় ১৫টি গ্রামের বাসিন্দা শবদাহ করেন নদীর চরে। কয়েক দশক থেকে এভাবেই মৃতদেহ সত্কার করা হলেও শ্মশানঘাট তৈরির উদ্যোগ নেয়নি রাজগঞ্জের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মন্থনীতে করলা নদীর পাড়ে খোলা আকাশের নীচে মৃতদেহ সত্কার করেন মন্থনীপাড়া, বাংলাবান্ধা, সরকারপাড়া, দিঘিডাঙ্গা, মন্থনীবাড়ি, নাউয়ানিপাড়া, দেবপাড়া সহ প্রায় ১৫টি গ্রামের বাসিন্দা। এভাবে মৃতদেহ সত্কার করা হলেও স্থায়ী শ্মশানঘাট করার ব্যাপারে প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা তাহেরু রায়, মানব রায় প্রমুখ বলেন, শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সহ বারোপেটিয়া এলাকার অন্তত ১৫টি গ্রামের বাসিন্দারা মন্থনী হাটের কাছে করলা নদীর পাড়ে শবদাহ করেন। ওই স্থানে শ্মশানঘাট করার জন্য নদীর চর ছাড়াও সরকারি খাসজমি রয়েছে। কয়েক দশক থেকে রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে মৃতদেহ সত্কার করা হচ্ছে। বৃষ্টি বা ঝড়ের মধ্যে অনেক সময আধপোড়া মৃতদেহ নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে বা তাড়াহুড়ো করে মাটিতে পুঁতে চলে যেতে বাধ্য হয়। ওই মৃতদেহ শেয়াল, কুকুরে টানাটানি করে। এতে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনেকবার শ্মশানঘাটের দাবি করা হলেও আজও তা হয়নি। বামফ্রন্টের শাসনকালের পর তৃণমূল সরকার এলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হযনি। বাসিন্দারা বলেন, শ্মশানঘাট করার জন্য রাজ্য সরকারের বৈতরণী প্রকল্প থাকলেও অজ্ঞাত কারণে সেই প্রকল্পের সুবিধা থেকে এলাকার মানুষ বঞ্চিত। নিরুপায় হযে তারা নদীর পাড়ে শবদাহ করছেন।
স্থানীয পঞ্চায়েত সদস্য তপন রায় বলেন, ওই স্থানে বহু গ্রামের মানুষ অন্তত একশো বছর থেকে শবদাহ করেন। আমি শ্মশানঘাট করার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো হেলদোল নেই। এমনকি ১০০ দিনের প্রকল্পে জায়গাটি শ্মশানের উপযোগী করার জন্য লিখিতভাবে জানানো হলেও তা গ্রাহ্য করেনি। আমি বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য, তাই তৃণমূল পরিচালিত ওই গ্রাম কর্তৃপক্ষ মানুষের সমস্যাটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে আমার ধারণা। এ ব্যাপারে গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অমলেন্দু ভৌমিক বলেন, ওই জায়গায় শ্মশানঘাট নেই তা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করব। গ্রাম পঞ্চায়েচ প্রধান রঞ্জিতা রায় বলেন, শুধু ওই জাযগা নয়, আমার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ২১টি বুথের মধ্যে শুধুমাত্র একটি বুথে শ্মশানঘাট আছে। তাও বেহাল দশা। ওই স্থানে শ্মশানঘাট করার চেষ্টা করা হবে।