করোনার কোপে সীমান্তের বাজারে শূন্যতা

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ভুটানে। ফলে মুক্ত সীমান্ত থাকলেও সে দেশের কেউ ভারতের মাটিতে পা রাখতে পারছেন না। অন্যদিকে, এদেশের বাসিন্দাদেরও সেখানে ঢোকার অনুমতি নেই। ফলে গত ৮ মাস ধরে ব্যবসা হারিয়ে পথে বসার জোগাড় হয়েছে নাগরাকাটার জিতি সীমান্তের শতাধিক ব্যবসায়ীর। সংসার চালাতে বিকল্প আয়ের সন্ধানে সেখানকার এক সময়ে অবস্থাপন্ন দোকানদারও এখন পাড়ি দিচ্ছেন অন্যত্র। পরিস্থিতি এমনই যে, সরকারি দু-টাকা কিলোর র্যাশনের চালই গ্রাসাচ্ছাদনের ভরসা অনেকের। নাগরাকাটার বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা বলেন, জিতি সীমান্তের ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানি। অত্যন্ত করুণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।

জিতি চা বাগানের গোপাল লাইন ঘেঁষা সীমান্ত বরাবর জায়গায় এতদিন যে বাজার বসত তা শুধু ভুটানি খদ্দেরদের ভরসাতেই চলত। সে দেশের শিবচু, গোলা, চারঘোরে, চ্যাংমারি, গাঠিয়া, টেন্ডু, বিরু, গুমৌনি থেকে প্রতিদিনই দলে দলে মানুষ এসে জিতির বাজার থেকে জিনিসপত্র কিনতেন। ফি রবিবারের সাপ্তাহিক হাটের দিন গমগম করত গোটা এলাকা। করোনা সংকটের কারণে ভুটানেও লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এন্ট্রি পযে্টে রয়েছে ভুটান পুলিশের কড়া নজরদারি। সীমান্ত বরাবর সে দেশের ভূখণ্ডেই ভুটানের বাসিন্দাদের যে দোকানপাট ছিল সেগুলিকেও ফাঁকা করে দিয়ে তাঁদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাতায়াতের এই কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণেই এখন হাঁসফাঁস করছে জিতি বাগানের আপার ডিভিশনের ওই সমৃদ্ধ বাজারের অর্থনীতি। জিতির পাশাপাশি মার খেয়েছে সেখান থেকে ৬ কিলোমিটার দূরের চম্পাগুড়ি বাজারও।

- Advertisement -

এমনকি প্রভাব পড়েছে নাগরাকাটাতেও। যে সমস্ত জিনিস ভুটানিরা জিতিতে পেতেন না তাঁরা তা এতদিন কিনতে চলে আসতেন ওই দুটি জায়গায়। জিতি সীমান্তের অমরনাথ গুপ্তা নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, দোকান খোলা আর বন্ধ করে রেখে দেওয়া এখন একই ব্যাপার। দিনে একজন খদ্দেরেরও দেখা নেই। কীভাবে সংসার চলছে ঈশ্বরই জানেন। সুনীল গুপ্তা নামে আরও এক ব্যবসায়ী বলেন, অনেকেই ঝাঁপ বন্ধ করে বাইরে চলে যাচ্ছেন। এছাড়া আর কীই বা করার আছে। মহম্মদ ফিরোজ নামে আরেক ব্যবসায়ীর কথায়, যে ব্যবসায়ীর গুদাম আগে চড়া দরের সুগন্ধি চালের বস্তায় ভরা থাকত, তাঁর পরিবার এখন বেঁচে রয়েছে সরকারি র্যাশনের চালের ওপর। এ থেকেই অবস্থা বুঝে নিন। অজিত প্রসাদ নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, করোনা আমাদের সবকিছু কেড়ে নিল। দ্রুত যদি বর্ডার না খোলে তাহলে আর বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

জিতি চা বাগানের শ্রমিক নেতা ও বিজেপির নাগরাকাটা এক মণ্ডল কমিটির সভাপতি সন্তোষ হাতি বলেন, শুধু ব্যবসাই চৌপাট হয়নি, সীমান্ত সিল থাকায় পানীয় জলের জন্যও আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সে দেশের পাহাড়ের প্রাকৃতিক জলাধারই জিতির সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মূল ভরসা। পাইপযোগে বাগানের বিভিন্ন এলাকায় সেই জল সরবরাহ করা হয়। এখন ভুটানের ভেতর পাইপলাইনে কোনও সমস্যা হলে পাস নিয়ে তবেই মেরামতির জন্য ঢোকার অনুমতি মেলে। এতে প্রায়ই অনেক দেরি হয়।