জোট নিয়ে ফয়সালা হল না, মেজাজ হারালেন অধীর

709

কলকাতা: ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেসের জোট হচ্ছেই। আসন বণ্টনের বিষয়টি একটি জটিল প্রক্রিয়া। আর তারই প্রস্তুতি স্বরূপ দু’পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক ও বাক্যবিনিময় চলেছে। মঙ্গলবার আরএসপি মুখপত্রের দপ্তর কান্তি প্রেসে বাম কংগ্রেসের যৌথ বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে ওই কথা বলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তবে এই মুহূর্তে তারা আসন বন্টন নিয়ে মাথা না ঘামালেও যৌথ আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে জোটকে জনসাধারণের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চায়।

এদিন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, শুধুমাত্র বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করলেই চলবে না। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে রাজ্যের তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপিকে এরাজ্যে হাতে ধরে এনেছিল তৃণমূল। এখনো দুই দলের মধ্যে চলছে গোপন পরামর্শ। সেই কারণেই কয়লা কেলেঙ্কারিতে মুখ রক্ষা করতে তৃণমূল নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এরফল কি হবে তা কারোরই অজানা নয়। তবে, তিনি বলেন যে বাম কংগ্রেসের জোট নয়, আসন সমঝোতা হবে। তবে এদিন মূলত আন্দোলন কর্মসূচি নিয়েই তাদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগামী ২৬ নভেম্বর সমস্ত কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি ভারত বনধের ডাক দিয়েছে। আর সেই ভারত বনধকে সফল করতে আন্দোলন কর্মসূচি কি হবে সে বিষয়ে তাদের আলোচনা হয়েছে। শুধু তাই নয় আগামী ২৩ নভেম্বর শ্রমিক সংগঠনগুলোর কলকাতা শাখার পক্ষ থেকে যে পদযাত্রার ডাক দিয়েছে তাতে বাম-কংগ্রেস ও যোগদান করবে বলেও তিনি জানান।

- Advertisement -

এদিন অধীরবাবু মূলত একাধিকবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মেজাজ হারান। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ঘন্টা দুয়েক পরে অধীরবাবুরা বৈঠকের জন্য নির্ধারিত স্থান কান্তি প্রেসে এসে হাজির হন। আর সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জোট প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এখানে আলোচনা হবে রাত্রিবেলায় আমরা কিভাবে হিমালয় পর্বতটাকে উড়িয়ে নিয়ে চলে আসবো কলকাতায় তা নিয়ে।” তবে তিনি কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্ভবত নিজের ভুল বুঝতে পেরে সাংবাদিকদের জানান, তাদের জোট হবে। তারা জিতবে এবং রাজ্যের ক্ষমতা দখল করবে।

পরে দুজনের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে অধীর বাবু জানান, যেভাবে তৃণমূল বিজেপির আইটি সেলের পক্ষ থেকে বাম ও কংগ্রেসের জোটকে ভাঙ্গানোর চেষ্টা চালাচ্ছে তাতে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, এই জোট নিয়ে উভয় দলই ভীত,সন্ত্রস্ত। তাই জোটের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। এদিন এক প্রশ্নের উত্তরে অধীর বাবু জানান, দলের নেতারা দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিলেও দলের কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা অন্য দলে যাচ্ছেন না। তারা তাদের দলের সঙ্গেই আছেন। আর সেই কারণেই তারা বাংলা দখলের লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, যেভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে তার বিরুদ্ধে তারা খুব শীঘ্রই যৌথ আন্দোলনে সামিল হবেন।

বিমানবাবু অধীর বাবুরা যাই বলুন না কেন বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে যে, এবারের বাম কংগ্রেসের জোট নিয়ে একটি এজেন্ডা তৈরি করতে চায় দুপক্ষই। আর সেটা হল কমন মিনিমাম প্রোগ্রাম। তবে বামেরা চায় সেই এজেন্ডা কি হবে তার রূপরেখা দিক কংগ্রেস। তারপরেই সেই এজেন্ডা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে। এদিন বিমানবাবু আরও জানান, বাম কংগ্রেসের জোট নিয়ে পরবর্তী বৈঠক হবে আগামী ২৬ নভেম্বরের ভারত বন্ধের পরে।