উন্নয়নের পরশহীন কানু সান্যালের গ্রাম

161

নকশালবাড়ি : পোস্টার নেই, নেই দেওয়াল লিখন। রাজনৈতিক দলগুলির কোনও পতাকাও রাস্তার ধারে দেখা গেল না। চায়ের দোকান থাকলেও সেখানে নেই ভোট নিয়ে কোনও চর্চা। ভোটের আগে হাতিঘিসার বাংলাবস্তির ভোটারদের মধ্যে দেখা গেল চরম নিস্তব্ধতা। একটা সময় নকশাল নেতা কানু সান্যালের কার্যকলাপে হাতিঘিসা গ্রাম সংবাদের শিরোনামে এসেছে বহুবার। বাম আমলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই গ্রাম থেকেই সরাসরি যোগাযোগ করতেন তিনি। ওই এলাকারই একটি গ্রাম হল বাংলাবস্তি। এখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই বাংলাদেশ থেকে এসেছেন বলে নাম দেওয়া হয়েছিল বাংলাবস্তি। ভোটের আর সাতদিন বাকি থাকলেও কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বা নেতার পায়ের ধুলো এই গ্রামে এখনও পর্যন্ত পড়েনি বলে জানান বাসিন্দারা।

নকশালবাড়ি ব্লকের অন্তর্গত হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বীরসিংজোত এবং সেবদোল্লাজোতের মাঝে মানঝা নদীর কোলে অবস্থিত বাংলাবস্তি। বীরসিংজোত প্রাইমারি স্কুল থেকে বাংলাবস্তির দূরত্ব ২ কিমি। কিন্তু এখানে যোগাযোগের কোনও রাস্তা নেই বললেই চলে।

- Advertisement -

একমাত্র মাটির রাস্তাটি বীরসিং এক নম্বর বাঁধ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, প্রায় ১১ বছর আগে একশো দিনের কাজে দুই কিলোমিটার মাটির রাস্তাটি নির্মাণ করেছিল হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েত। এরপর পার হয়ে গিয়েছে প্রায় এক দশক। কিন্তু কাঁচা রাস্তাটি এখনও পাকা হল না।

বর্তমানে এই রাস্তার হাল খুবই খারাপ। এই রাস্তাটি বালি আর ধুলোয় জরাজীর্ণ, এককথায় ব্যবহারের অযোগ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজেপি হোক কিংবা তৃণমূল, ১১ বছরে ন্যূনতম উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এলাকায়। রাস্তার বেহাল অবস্থায় প্রার্থীরাও প্রচারে আসতে ভয় পাচ্ছেন এই এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা ঋত্বিক মুন্ডা বলেন, বিজেপি বলেছিল হাতিঘিসাকে আদর্শ গ্রাম করা হবে। আদর্শ গ্রাম তো দূরের কথা, আমরা এখনও পাকা রাস্তা, পানীয় জল, পথবাতির সমস্যায় ভুগছি। মানঝা নদীর জল আমরা খেতে বাধ্য হচ্ছি। তাই ভোট নিয়ে আমাদের গ্রামে কোনও উৎসাহ নেই। আর এক বাসিন্দা অঞ্জনা বর্মন বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে আমরা বাংলাদেশ থেকে এসে এখানে বসতি স্থাপন করেছি। রাস্তাঘাটগুলো এখনও সামান্য বৃষ্টিতে কাদায় ভরে যায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরাও আমাদের খোঁজখবর রাখেন না। বছর খানেক আগে মাটির তলায় পানীয় জলের জন্য পাইপ বিছানো হয়েছিল, কিন্তু আজও জল আসেনি। হাতিঘিসা হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র জিৎ বর্মন বলেন, গ্রামে ঢোকার একমাত্র রাস্তাটির বেহাল দশায় বর্ষাকালে আমরা স্কুলে যেতে পারি না। এ বিষয়ে হাতিঘিসা পঞ্চায়েতের প্রধান জ্যৈষ্ঠমোহন রায় বলেন, ওই মাটির রাস্তা মেরামত করা হবে। এলাকার বাসিন্দাদের ইন্দিরা আবাস যোজনায় ঘরবাড়িও দেওয়া হয়েছে।