প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তারের কাজ চালাচ্ছেন সাফাইকর্মী

288

মাদারিহাট : গৃহপালিত প্রাণীর চিকিৎসা করছেন একজন সাফাইকর্মী। অবিশ্বাস্য হলেও এমন ঘটনা চলছে টোটোপাড়া বল্লালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কারণ, ওখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও কোনও চিকিৎসক নেই। মাদারিহাট ব্লকে ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ। বাকি চারটির মধ্যে টোটোপাড়া বল্লালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নামেমাত্র খোলা। কারণ এখানে কোনও চিকিৎসক না থাকায় একজন সাফাইকর্মী চিকিৎসকের কাজ চালাচ্ছেন।

মাদারিহাট ব্লক প্রাণীসম্পদ আধিকারিক কৌশিক চক্রবর্তী জানান, চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মী মিলে ২৭ জন থাকার কথা ব্লকে। কিন্তু আমাকে নিয়ে ব্লকে রয়েছেন মাত্র ৫ জন। আমার অফিসে আমি ছাড়া আর কোনও কর্মী নেই। ব্লকে আছে ১৯টি চা বাগান। বাগানের শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের বিকল্প রোজগারের পথ হল প্রাণী পালন। কিন্তু বাগানগুলিতে কোনও গবাদি প্রাণীর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। চিকিৎসক ও কর্মী না থাকায় দারুণ সমস্যায় পড়েছেন তিনি।

- Advertisement -

তিনি জানান, মাদারিহাট ব্লকে দশটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু হান্টাপাড়া, বান্দাপানি, খয়েরবাড়ি, লঙ্কাপাড়া, বীরপাড়া-২ ও শিশুঝুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসক তো দূরের কথা, সাফাইকর্মীও নেই। ফলে এই সব প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে মাদারিহাট, বীরপাড়া-১ ও রাঙ্গালিবাজনার প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা রয়েছে।

বন্ধ মুজনাই চা বাগানের শ্রমিকদের এখন বিকল্প রোজগারের একমাত্র উপায় প্রাণী পালন। এই বাগানের শ্রমিক বিকাশ ওরাওঁ ও মাঘু সাঁওতাল জানান, বাগান বন্ধের পর তাঁরা ছাগল, গোরু পালন করে কোনওভাবে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু এই সব গবাদি প্রাণীর অসুখ হলে তাঁদের আসতে হয় প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মাদারিহাটে। তাঁরা জানান, হান্টাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত তাঁদের বাগানের খুব কাছে। কিন্তু ওখানকার প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।

ডাঃ চক্রবর্তী জানান, নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশি গোরুকে উন্নত সাহিওয়াল প্রজাতিতে উন্নীত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মাদারিহাট ব্লকের প্রায় ১১ হাজার দেশি গোরুকে এই প্রজাতিতে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক ও কর্মীর অভাবে খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তিনি জানান, দেশি গোরু যেখানে প্রতিদিন ১ লিটার দুধ দিত সেখানে রূপান্তরিত হওয়ার পর ১২ থেকে ১৪ লিটার পর্যন্ত দুধ দিচ্ছে এক-একটি গোরু।