বালুরঘাট মাতৃসদনে চিকিৎসা পরিষেবা লাটে উঠেছে

- Advertisement -

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : করোনার প্রকোপ রুখতে লকডাউন শুরু হতেই চিকিৎসকরা আর পা রাখেননি। ফলে দীর্ঘ আট মাস ধরে বালুরঘাট পুর হাসপাতাল মাতৃসদনে অপারেশন সহ অন্য পরিষেবা বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে পরিষেবা না পেয়ে শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা নিজেদের দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও পুরকর্মীরা কিন্তু যথাযথ পরিষেবা দিতে পিছপা হননি। টিকাকরণের কাজ বা করোনা আক্রান্তদের যাবতীয় পরিষেবার কাজ তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন। মাতৃসদনে অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে জটিল অস্ত্রোপচারের পরিষেবা খুবই স্বপ্লমূল্যে পাওয়া যেত। এখন তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নার্সিংহোমগুলি থেকে প্রচুর টাকা খরচ করে অস্ত্রোপচার করাতে হচ্ছে। এরফলেই মূলত আরও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। আর তাই অস্ত্রোপচার সহ অন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিষেবা চালুর দাবিতে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা।

সীমান্ত জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরে বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত না থাকার মতোই। তাই এই জেলার অধিকাংশ মানুষই সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার উপরে ভরসা করেন। জটিল অপারেশনের জন্য অবশ্য বেশিরভাগ সময়ই বাইরের জেলাতেই রেফার করা হয় রোগীদের। তবে সিজার বা গলব্লাডারের অপারেশন বালুরঘাটেই করানো হয়। এক্ষেত্রে বালুরঘাট পুর হাসপাতালে অস্ত্রোপচার চালু থাকায়, অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা পান নাগরিকরা। কিন্তু গত মার্চ মাসে করোনার জেরে লকডাউন হবার পর থেকেই বালুরঘাট পুরসভার এই হাসপাতালে অস্ত্রোপচার সহ অন্য পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও পুরকর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসক সমস্যার জেরে মাতৃসদন বন্ধ হয়ে রয়েছে। পুর হাসপাতাল মাতৃসদনে মূলত সরকারি চিকিৎসকরাই পরিষেবা দিতে আসতেন। অস্ত্রোপচার সহ বিভিন্ন পরিষেবা তাঁরাই দিতেন। কিন্তু করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে চিকিৎসকরা এই হাসপাতালে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন।

এদিকে নার্সিংহোমগুলি কিন্তু দেদার চলছে। শুধু তাই নয়, সেখানে সরকারি চিকিৎসকদের যাতায়াতও অব্যাহত রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে পুর হাসপাতালে কোনও পরিষেবা না পেয়ে নার্সিংহোমে বেশি খরচা করে রোগীদের অস্ত্রোপচার করাতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী মানুষ। খিদিরপুর এলাকার গৃহবধূ শর্মিষ্ঠা পাল বলেন, আমার গলব্লাডার অপারেশনের জন্য সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু সেখানে করাতে পারিনি। ফলে মাতৃসদনে অস্ত্রোপচার করার পরিকল্পনা করলেও সেখানে অপারেশন বন্ধ থাকায়, নার্সিংহোমে করাতে বাধ্য হই। আর তাই প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়েছে। বালুরঘাটের মহকুমা শাসক ও বালুরঘাট পুরসভার প্রশাসক বিশ্বরঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, মাতৃসদনে চিকিৎসক নিয়ে একটা সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। শীঘ্রই স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে চিকিৎসকের জন্য একটা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। আশা করছি, এই বছরের শেষে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

- Advertisement -