একমাত্র চিকিৎসক অসুস্থ, বিন্দোলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালাচ্ছেন ফার্মাসিস্ট

রায়গঞ্জ : একমাত্র চিকিৎসক প্রায় একমাস ধরে অসুস্থ থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসছেন না। ফলে ফার্মাসিস্টের হাত ধরেই চলছে রায়গঞ্জের বিন্দোল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা। স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ হলে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। চিকিৎসক না থাকায় অনেকেই সময় ও টাকা খরচ করে রায়গঞ্জ শহরে যাচ্ছেন। যাঁদের সেই সামর্থ্য নেই, তাঁরা একপ্রকার বাধ্য হয়ে চিকিৎসার জন্য ফার্মাসিস্টের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এমন অবস্থার মধ্যেও ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর অবশ্য কোনও আশার আলো দেখাতে পারেনি। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ বাগ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত চিকিৎসক না থাকায় আপাতত কাউকে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এমন অবস্থার মধ্যেই চলবে। এ ব্যাপারে বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায় বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নেই। বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরে জানাব।

দীর্ঘদিন ধরেই রায়গঞ্জের বিন্দোল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। রাজ্যের পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির হাল ফেরানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আশ্বাস আজও পূরণ হয়নি। নতুন সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিমতো আজও কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ বাসিন্দারা। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নির্ভরশীল হলেও এখানে একজন ফার্মাসিস্ট সহ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন। প্রায় একমাসের বেশি সময় হল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একমাত্র চিকিৎসক নারায়ণ চক্রবর্তী অসুস্থ। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে ফার্মাসিস্টকে গ্রামবাসীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হচ্ছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন গ্রামবাসীরা। প্রায় ২৫ কিমি দূরে রায়গঞ্জে এসে চিকিৎসক দেখাতে হচ্ছে তাঁদের।

- Advertisement -

দেবেন্দ্রনাথ রায় গত নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় শয্যা, ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স, অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগ, মাতৃসদন, পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স, প্রয়োজনীয় ওষুধ সহ সমস্ত পরিষেবা ২৪ ঘন্টা পাওয়া যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে দাবি গ্রামবাসীদের। প্রায় ৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও কোনও পরিষেবা চালু করতে পারেননি। বরং যা ছিল তাও বন্ধের মুখে বলে অভিযোগ। পাহাড়পুর, পরিহারপুর, বিন্দোল, বহর, শেরপুর সহ প্রায় ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় গ্রামবাসীদের ঘুরে যেতে হচ্ছে। ফার্মাসিস্ট নিবারণ রায় আউটডোরে প্রতিদিন শতাধিক রোগী দেখেন। যাদের রায়গঞ্জে গিয়ে চিকিৎসক দেখানো সম্ভব নয়, তাঁরা বাধ্য হয়ে ফার্মাসিস্টকে দেখিয়ে ওষুধ নেন। গ্রামবাসী অশোককুমার রায় বলেন, বিন্দোল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর কয়েক হাজার মানুষ নির্ভরশীল। অথচ কোনও ডাক্তার নেই। গ্রামের মানুষদের চিকিৎসক দেখানোর জন্য রায়গঞ্জ শহরে ছুটতে হচ্ছে। দিনমজুর মানুষগুলি বিপদে পড়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের আপাতত এখানে একজন চিকিৎসককে পাঠানো উচিত।

এলাকার কংগ্রেস নেতা ফরিদ বক্স বলেন, বাম আমলে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধুনিকীকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হয়নি। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য দপ্তর দেখেন। তা সত্ত্বেও বেহাল অবস্থায় রয়েছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। একজন চিকিৎসক থাকলেও তিনি দুটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বসেন। বর্তমানে সেই চিকিৎসক অসুস্থ। গ্রামের মানুষকে ভরসা করতে হচ্ছে ফার্মাসিস্টের ওপর। আমাদের দাবি একজন চিকিৎসক এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠাতে হবে। গ্রামবাসী মজিবুর রহমান জানান, ডাক্তার দেখাব বলে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বসে আছি। কিন্তু দুপুর ১২টা পর্যন্ত কারওর দেখা নেই। কিছুক্ষণ আগে একজন এসেছেন। শুনলাম তিনি ডাক্তার নন। বাধ্য হয়ে তাঁকেই দেখাতে হবে। রায়গঞ্জে গিয়ে ডাক্তার দেখানো সম্ভব নয়। অবিলম্বে এখানে ডাক্তার নিয়োগের দাবি জানান তিনি। রায়গঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ বাগ জানান, প্রায় একমাস হল বিন্দোল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক অসুস্থ থাকায় ফার্মাসিস্ট চিকিৎসা চালাচ্ছেন। অতিরিক্ত চিকিৎসক না থাকায় ওখানে অন্য কোনও চিকিৎসককে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। আপাতত এইভাবেই চলবে।