সৌরভ রায়, হরিরামপুর : মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে আস্ত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র অথচ দেখা নেই কোনো ডাক্তারের। হরিরামপুর ব্লকের বালিহারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠটি এখন পরিণত হয়েছে গোচারণভূমিতে। আর এই নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষজন। হরিরামপুর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছিল বালিহারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। উদ্দেশ্য ছিল, গ্রামের কোনো মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হলে যাতে তিনি অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসার সুযোগটুকু পান। কিন্তু হাসপাতাল তৈরি হলেও লক্ষ্যপূরণ হয়নি। বরং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্যাম্পাস জুড়ে এখন শুধুই ঘুরে বেড়ায় গোরুর পাল।

হরিরামপুর ব্লকের সৈয়দপুর পঞ্চায়েতে রয়েছে এই বালিহারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা গ্রামীণ হাসপাতালটি। ঘন জনবসতি পূর্ণ সৈয়দপুর ও গোকর্ণ- এই দুটি পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার মানুষের কথা ভেবে বাম আমলে তৈরি হয় ওই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। একটি ব্লকস্তরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের যা যা পরিকাঠামো থাকা দরকার, তার সবটাই রয়েছে ওই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। অভাব শুধু ডাক্তারের। আর তাই এখন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রূপ পালটে তা পরিণত হয়েছে গরুর ঘাস খাওয়ার মাঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ৫ বছর ধরে কোনো ডাক্তার নেই। মাঝে মাঝে ডাক্তার এলেও, তিনি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আগেই তাঁকে তুলে নেয় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। বর্তমানে সেখানে রয়েছেন একজন গ্রুপ-ডি কর্মী ও একজন নার্স। চিকিৎসা করাতে আসা হাতেগোনা রোগীদের ওষুধ লিখে দেন তাঁরাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই নার্স জানিয়েছেন, জ্বর-সর্দি ও পেট খারাপ হলে আমিই ওষুধ দিই। বাকিদের প্রয়োজন মতো পাঠিয়ে দেওয়া হয় ব্লক হাসপাতালে।

- Advertisement -

গত দশ বছরে রাতে কোনো দিন দরজা খোলেনি বালিহারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তৈরি ডাক্তারদের জন্য কোয়ার্টারগুলিও বর্তমানে আগাছায় ভরে নষ্ট হচ্ছে। তেমনভাবে কোনো রোগী আসে না বলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠে এলাকার মানুষ গোরু বেঁধে দেন ঘাস খাওয়ানোর জন্য। গোবরের ঘুঁটে দেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দেয়ালে। বালিহারা গ্রামের বাসিন্দা পারুল বিবি বলেন, আমাদের সঙ্গে বঞ্চনা করা হচ্ছে। গ্রামবাসীরা জানান, সপ্তাহে তিনদিনের জন্য একজন ডাক্তার দিলেও বহু মানুষ উপকৃত হতেন। কাছাকাছি কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার না থাকায় বাধ্য হয়ে হরিরামপুর বা ঘোরা পথে ইটাহার হাসপাতালে ছুটতে হয় মানুষকে।

দিদিকে বলোর নম্বরে ফোন করে মুখ্যমন্ত্রীকেও এই বেহাল দশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল আলম। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। তিনি বলেন, এমন বেহাল দশা গোটা রাজ্যের আর কোথাও নেই। তৃণমূলের হরিরামপুরের আহ্বায়ক তথা বালিহারা এলাকার বাসিন্দা হাতেম আলিও বালিহারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশার কথা স্বীকার করেছেন। হরিরামপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিএমওএইচ সৌভিক আলম বলেন, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে লিখিতভাবেই জানানো হয়েছে। জেলাশাসক নিখিল নির্মল জানান, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ডাক্তার দেবে বলে জানিয়েছে। তবে কবে বালিহারায় ডাক্তার আসবেন, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে বালিহারা, কালোমাটিয়া, কুরমানপুর সহ প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষ।