তপনকুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর : ইসলামপুর উপসংশোধনাগারে প্রায় দুবছর থেকে কোনো স্থায়ী চিকিত্সক নেই। আগের চিকিত্সক অবসর নেওয়ার পর সেখানে নতুন কোনো চিকিত্সক নিযোগ হয়নি। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার আইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, একজন বন্দি সংশোধনাগারে চিকিত্সা পাবেন। কিন্তু ইসলামপুর উপসংশোধনাগারে সেই আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। কঠিন অসুখ হলে বন্দিদের ভরসা ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতাল। অনেক সময় প্রযোজনে ওই হাসপাতাল থেকে চিকিত্সক যান বন্দিদের চিকিত্সা করতে। মহকুমা হাসপাতালের সুপার নারায়ণ মিদ্যা বলেন, উপসংশোধনাগারে মেডিকেল চেকআপের প্রযোজনে আমাদের রিকুইজিশন দিলে আমরা মেডিকেল বোর্ড পাঠাই। তবে তা নিয়মিত নয়।

ইসলামপুর উপসংশোধনাগারে গড়ে শতাধিক বন্দি থাকে। উপসংশোধনাগারের ভিতরে দুশয্যার একটি হাসপাতাল রয়েছে। সরকারিভাবে ওষুধ আসে। তবে প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে ওষুধ কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০১৭ সালে উপসংশোধনাগারের স্থায়ী চিকিত্সক অবসর নেন। তারপর থেকে আর কোনো চিকিত্সক নিযোগ হয়নি। আদালত কোনো অপরাধীকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে, ঢোকার আগে সেই ব্যক্তির শারীরিক পরীক্ষা করাতে হয়। স্থায়ী চিকিত্সক না থাকায় সেই কাজ আদৌ হয় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ছোটোখাটো অসুখ করলে বন্দিদের ভরসা উপসংশোধনাগারের একমাত্র ফার্মাসিস্ট। উপসংশোধনাগারের এক কর্তা বলেন, স্থায়ী চিকিত্সক অবসর নিলে কারা দপ্তর চুক্তিভিত্তিক চিকিত্সক নিযোগের অনুমোদন দিয়েছে। চিকিত্সক নিযোগ করতে একাধিকবার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চিকিত্সক পাওয়া য়ায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চিকিত্সকের অভাবে কোনো বন্দি সংশোধনাগারে আসার আগে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে বন্দিদের রাখতে হচ্ছে।

চিকিত্সক মহলের দাবি, চুক্তির ভিত্তিতে চিকিত্সক পাওয়া সমস্যা আছে। এমনিতেই কম টাকা দেওয়া হয়। তারপর দিনে দুবার যেতে হবে। এছাড়া জরুরি কল তো থাকছেই।  এবিষয়ে ইসলামপুর মহকুমাশাসক তথা উপসংশোধনাগারের সুপার অলংকৃতা পান্ডে বলেন, ফের সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই সমস্যার সমাধান করতে।