শিলিগুড়ি : বহির্বিভাগ শুরু হওয়ার কথা সকাল নটায়। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ১০টা পেরিয়ে গেলেও দেখা নেই চিকিৎসকের। অথচ, টিকিট কেটে ডাক্তার দেখাতে লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছে। প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তারদের জন্য রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করাই দস্তুর। কিন্তু শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালেও ইদানীং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। সকাল নটায় বহির্বিভাগ খোলার কথা থাকলেও বেলা ১০টাতেও অধিকাংশ চিকিৎসকই ডিউটিতে আসছেন না। প্রশ্ন উঠেছে, চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরেই মর্জিমাফিক হাসপাতালে ডিউটি করলেও কেন কর্তৃপক্ষ এঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না? রোগী পরিষেবার উপরে কেন জোর দিচ্ছেন না হাসপাতাল কর্তারা? হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ডাঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, বারবার চিকিৎসকদের সতর্ক করার পরেও কাজ হচ্ছে না। মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেখানে চিকিৎসকরা য়দি সময়মতো নিজের দাযিত্ব পালন না করেন তাহলে তা দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে আবার রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকে আলোচনা করা হবে।

শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে মেডিসিন, শিশু, স্ত্রীরোগ, দন্ত, অর্থোপেডিক, চক্ষু, নাক-কান-গলা, জেনারেল সহ বিভিন্ন বহির্বিভাগ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে হোমিওপ্যাথি বহির্বিভাগ। সরকারি নিয়ম অনুয়ায়ী সকাল সাড়ে ৮টায় বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার খুলতে হবে। সেখানে টিকিট কেটে রোগীরা সরাসরি বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য লাইন দেবেন। সকাল নটায় বহির্বিভাগ চালু হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সকাল নটায় কোনও বহির্বিভাগের দরজাই খুলছে না। ফলে রোগীরা টিকিট কেটে বহির্বিভাগের সামনে গিয়ে লাইন দিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সময় যত গড়ায়, ততই দীর্ঘ হয় লাইন।

- Advertisement -

মঙ্গলবারও এমনই ঘটনা লক্ষ্য করা গিয়েছে। এদিন সকালে টিকিট কাউন্টারই খুলেছে সাড়ে ৮টার অনেক পরে। সাড়ে নটাতেও দন্ত ছাড়া কোনও বহির্বিভাগেই চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। বেলা ১০টা নাগাদ একে একে চিকিৎসকরা ডিউটিতে এসেছেন। কিছু চিকিৎসক আবার কয়েকজন রোগী দেখেই অন্তর্বিভাগে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখার জন্য চলে গিয়েছেন। ফলে একজন অসুস্থ মানুষকে বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

এদিন মাকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন আশিঘরের সুমতি সাহা। তিনি বলেন, পৌনে ৮টায় টিকিট কাউন্টারের সামনে লাইন দিয়েছি। প্রায় নটার সময় টিকিট কাউন্টার খুলল। টিকিট কেটে দোতলায় উঠে এসে বহির্বিভাগের বাইরে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু বহির্বিভাগের দরজায় খুলল সাড়ে নটার পরে। এভাবে ছোটাছুটি করতে গিয়ে মা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হাসপাতাল সুপার ডাঃ অমিতাভ মণ্ডলকে এদিন হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।