স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী দেখেন সাফাইকর্মী, ফার্মাসিস্ট

হরষিত সিংহ, মালদা : ঝাঁ চকচকে ভবন রয়েছে, নতুন বেড, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধও রয়েছে। তবে নেই চিকিৎসক কিংবা নার্স। তাই এখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী দেখেন স্থায়ী পদের সাফাইকর্মী। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোয়ার্টারে থাকেন। তাই হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে বা জ্বর-সর্দি হলে তিনিই ওষুধ দেন। তবে সপ্তাহে পাঁচদিন হবিবপুর ব্লকের বাহাদুরপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন ফার্মাসিস্ট আসেন। তিনি এখন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্হিবিভাগে নিয়মিত রোগী দেখেন। সকাল ১১ টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত রোগী দেখে ওষুধ দেন।

তবে গত চার মাস আগেই এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চালু ছিল জরুরি পরিষেবা। রোগী ভর্তি থাকতেন। সমস্ত রকমের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হত। এমনকি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসূতি বিভাগও চালু করা হয়েছিল। তবে হঠাৎ করে ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এই হাসপাতালে দুই চিকিৎসক ও একাধিক নার্স বদলি করে। যার ফলে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে হব্বিপুর ব্লকের চারটি পঞ্চায়েতের প্রায় এক লক্ষ সাধারণ মানুষ। ফের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরুরি পরিষেবা চালুর দাবিতে একাধিকবার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে লিখিতভাবে জানিয়ে কোনও সুরাহা হয়নি। এই বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভূষণ চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -

মালদা জেলার হবিবপুর ব্লকের বৈদ্যপুর পঞ্চায়েতে রয়েছে বাহাদুরপুর প্রাথমিক স্বাস্থকেন্দ্র। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর হবিবপুর ব্লকের আরও তিনটি পঞ্চায়েত আকতৈল, জাজইল ও কানতুর্কার বাসিন্দারা নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জরুরি পরিষেবা বন্ধ হয়েছিল। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ফের চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন ভবন তৈরি করা হয়। জরুরি পরিষেবা চালুর জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়। চিকিৎসক, নার্সদের থাকার জন্য কোয়ার্টার তৈরি করা হয়। ২০১৯ সালে নতুন করে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি পরিষেবা চালু করা হয়। দুই জন চিকিৎসক পাঠানো হয়। নার্স সহ অন্য কর্মী নিযোগ করা হয়। কয়েক মাস পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, হবিবপুর ব্লকে নতুন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক আসতেই তিনি বাহাদুরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুইজন চিকিৎসক ও নার্সদের বদলি করে বুলবুলচণ্ডি গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

দুই চিকিৎসক চলে যাওয়ায় হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা বন্ধ হয়ে পড়ে। চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে ওই এলাকায় প্রায় এক লক্ষ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকা থেকে বুলবুলচণ্ডি গ্রামীণ হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার এখনও উন্নতি হয়নি। ফলে মুহূর্ষু রোগীদের দূরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা বধু অধিকারী জানান, নতুন করে আমাদের এলাকার হাসপাতাল চালু হয়েছিল। কিন্তু কয়েকমাস পরিষেবা স্বাভাবিক থাকার পর বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের এলাকায় এখন কেউ অসুস্থ হলে আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়। সহজে গাড়ি পাওয়া যায় না। মুহূর্ষু রোগীকে বুলবুলচণ্ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। আমরা হাসপাতাল চালুর দাবিতে বিএমওএইচকে একাধিকবার জানিয়েছি। তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি।

বাহাদুরপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে বহির্বিভাগ চালু থাকলেও কোনও চিকিৎসক নেই। একজন ফর্মাসিস্ট রোগী দেখেন। এই নিয়ে এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের হঠাৎ করে কেন বদলি করা হল বা আদৌও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য কোনও চিকিৎসক রয়েছেন কি না তা ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জানানো হয়নি। এই বিষয়ে হবিবপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক পুনিতা সাহার সঙ্গে ফোন মারফত যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। বহুবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।