শিলিগুড়ির ডিআই ফান্ড পুরোনো বাজার এখন যেন নরককুণ্ড

309

শমিদীপ দত্ত  শিলিগুড়ি : একসময়ে সাহেবদের হাতে পরিচালিত এই মার্কেটে প্রতি সপ্তাহে রবিবার এবং বুধবার করে চিঁড়া, মুড়কি, মুড়ির হাট বসত। টিনের শেডের এই হাটে বসতেন বহু ব্যবসায়ী। সেইসময়ে সপ্তাহে দুদিন করে হাট বসলেও বর্তমানে রোজই মাছ, মাংস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রযোজনীয় জিনিসপত্রের পসরা নিয়ে বসেন ২০০-রও বেশি ব্যবসায়ী। যদিও ডিআই ফান্ড পুরোনো বাজারে বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার কারণে এখন নাকে কাপড় না দিয়ে ঢোকাই দায়। এরমধ্যেই বাজারের বাইরে ফ্লাইওভারের নীচে অবৈধভাবে আরেকটি বাজার গজিয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের কথায়, এককথায় নরককুণ্ডে পরিণত হওযা এই মার্কেটে এখন কেউ সহজে ঢুকতে চান না। ডিআই ফান্ড পুরোনো বাজার কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, আগে একশো লোক বাজারে ঢুকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যাটা চল্লিশ।

শহরের পুরোনো বাজারগুলির মধ্যে এই ডিআই ফান্ড পুরোনো বাজার অন্যতম। কারও কারও মতে, এই বাজার শহরের সবচেয়ে পুরোনো। একসময়ে শহরের সাধারণ মানুষের কাছে যাবতীয় জিনিসপত্র কেনার একমাত্র সম্বল বলতে এই বাজারই ছিল। যদিও বর্তমানে বাজারে ঢুকতেই পেট গুলিয়ে ওঠার জোগাড়। বাজার তৈরির সময় এলাকায় নিকাশি সমস্যার সমাধানে একটি নর্দমা তৈরি করা হয়েছিল। ব্রিটিশ আমলে তৈরি করা সেই নর্দমা এখনও থাকলেও পুরোটাই বেহাল। আবর্জনা উপচে রাস্তায় চলে এসেছে। বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে নর্দমাটির সঙ্গে সংযোগকারী নেহরু রোডের নর্দমাটি সংস্কার করে উঁচু করা হয়েছিল। যদিও এই নর্দমাটি সংস্কার না হওয়ায় নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে গিয়েছে। বাজারে আসা অসীমা রায় বলেন, ছোটোবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে এই বাজারে আসতাম। তাই এখনও আসি। কিন্তু বাজারে এলে বাইরে না বেরোনো পর্যন্ত দমবন্ধ হয়ে আসে। অজয় রায় বলেন, বৃষ্টি হলে নর্দমার আবর্জনা রাস্তায় চলে আসায়  সেই নোংরা মাড়িয়ে বাজারে ঘুরতে হয়। রোগের আশঙ্কায় বাড়ি গিয়ে স্নান করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমীর কুণ্ডু বলেন, নর্দমা দিয়ে আবর্জনা ঠিকঠাক যায় না। গত পাঁচবছরে একবারের জন্যও সাফাইকর্মীরা এসে  নর্দমাটি পরিষ্কার না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে যে সারাদিন এই দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হয়, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

- Advertisement -