চার গ্রামে জল নেই, নদী ভরসা বাসিন্দাদের

- Advertisement -

শিলিগুড়ি : গ্রামের রাস্তায় কয়েশো মিটার পরপর দুধারে বসানো রয়েছে সরকারি মার্ক-২ টিউবওয়েল। তবে সেগুলির বেশিরভাগ থেকেই জল পড়ে না। কোনওটির আবার চারিদিক ঝোপজঙ্গলে ভরে গিয়েছে। কোনওটি থেকে জল বের হলেও তার সঙ্গে বের হয় ইটের গুঁড়োর মতো দানা। আর সেই জলের রংও গাঢ় হলুদ অর্থাৎ প্রচুর আয়রনযুক্ত। গ্রামের ভিতর একের পর এক কুয়ো শুকিয়ে গিয়েছে। ফলে পানীয় জলের খোঁজে হাঁড়ি, কলসি নিয়ে এলাকাবাসী ছুটছেন নদীতে।

মাটিগাড়া ব্লকের আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের ডুমরিগুড়ি, তারাবাড়ি, লালসরা ও ধেমাল- এই চার গ্রামে এখন এই ছবি দেখা যাচ্ছে। সজলধারা প্রকল্পে বেশ কয়েক বছর আগে গ্রামের এক প্রান্তে বসানো হয়েছিল জলের ট্যাংক, পাইপলাইন। বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেটিও। গ্রামের বাসিন্দারা মিলে কয়েকটি কুয়ো তৈরি করলেও জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সেগুলিতেও জল থাকছে না। গত কয়েক বছর ধরে এভাবেই পানীয় জলের সংকটে ভুগছেন কয়েক হাজার বাসিন্দা। সমস্যা সমাধানের আবেদন জানিয়ে সরকারি আধিকারিক থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, দপ্তরে দপ্তরে বহুবার ঘুরেছেন তাঁরা। তবুও কোনও লাভ হয়নি। অভিযোগ, দেখছি, দেখব বলেই দায় এড়াচ্ছেন সকলেই।

প্রশাসনের আধিকারিকদের বক্তব্য, মাটির নীচের জলস্তর নেমে যাওয়াতেই যাবতীয় সমস্যা তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মাটিগাড়ার ওই এলাকায় নিয়ম না মেনে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যথেচ্ছভাবে বালাসন নদী থেকে বালি-পাথর তোলা হচ্ছে, যার ফলেই এলাকায় ভৌমজলের স্তর নেমে গিয়েছে। ফলে বর্ষার কয়েক মাস ছাড়া অন্য সময় কুয়ো বা মার্ক-২ টিউবওয়েলগুলিতে জল থাকছে না। আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অভিজিৎ পাল বলেন, ওই গ্রামগুলিতে পানীয় জলের সমস্যার কথা জানি। বাম আমলে এলাকায় একটি পাম্পহাউস তৈরি হলেও রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। আমরা সেটা সংস্কার করার পরিকল্পনা নিয়েছি। বাসিন্দারা যাতে পানীয় জল পান, তার জন্য যাবতীয় চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও শুধুমাত্র আশ্বাসে বিশ্বাস করতে পারছেন না এলাকাবাসী। তারাবাড়ির বাসিন্দা পতু ওরাওঁ বলেন, আশ্বাস শুনতে শুনতে আমাদের কান ঝালাপালা হয়ে গিয়েছে। কোনও আশ্বাসই বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা বাধ্য হয়ে নদীর নোংরা জল খাচ্ছি।

আরেক বাসিন্দা বিজন দাস বলেন, এখন যতটা গভীর কুয়ো খুঁড়লে জল পাওয়া যাবে, তার জন্য দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা প্রযোজন। আমরা দিন আনি দিন খাই। এত টাকা দিয়ে কুয়ো তৈরি করা আমাদের পক্ষে কোনওভাবেই সম্ভব নয়। নিয়মিত নদীর জল খাওয়ার ফলে এলাকায় পেটের রোগ সহ বিভিন্ন রোগ বাড়ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এলাকার বাসিন্দারা শিবমন্দির বাজার বা বাগডোগরা গেলে ব্যাগে জলের জার ভরে নিয়ে যাচ্ছেন, সেখান থেকেই জল ভরে আনছেন। তবে কাজ ফেলে প্রতিদিন শিবমন্দির বা বাগডোগরা যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়। মাটিগাড়ার বিডিও রুনু রায় বলেন, জলস্তর নেমে যাওয়াতেই ওই এলাকাগুলিতে পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা বেশ কিছু পরিকল্পনা করে বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়েছি। কীভাবে সমস্যা মেটানো যায়, সেটা খতিয়ে দেখছি।

- Advertisement -