শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : বামনডাঙ্গা চা বাগানের বীর বিরসা মুন্ডা মডেল ভিলেজের অর্ধেকের বেশি পরিবার এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি। মডেল ভিলেজের ৫৭১টি পরিবারের মধ্যে ২৫৩টি পরিবারকে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন বিদু্য়ৎ বণ্টন কোম্পানির কর্তারাও। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে।

২০১৪ সালে নাগরাকাটা থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে ডায়না ও গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া প্রত্যন্ত বামনডাঙ্গা চা বাগানের পতিত জমিতে ওই মডেল ভিলেজটি তৈরি করা হয়। বাগানের কাজ নেই এমন ৫৭১টি পরিবারকে আড়াই কাঠা করে জমির পাট্টা দিয়ে গীতাঞ্জলি আবাস প্রকল্পে সরকারি খরচে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়। সঙ্গে একটি করে শৌচালয়ও দেওয়া হয়। এখন সেগুলির বেহাল দশা। তৈরি হওয়ার পাঁচ বছর পর সেখানে প্রথম বিদ্যুৎ পৌঁছায়। কয়েকমাস আগে হাতি উপদ্রুত এলাকাটিতে শিবির করে নিখরচায় বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। কিন্তু এলাকার অর্ধেকের বেশি বাড়িতে এখনও পর‌্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির কর্তাদের দাবি, গোটা মডেল ভিলেজে বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকাঠামোগত কাজ হয়ে গিয়েছে। ৫টি ট্রান্সমিটারও বসানো হয়েছে। যাঁরা এখনও বিদ্যুৎ পাননি তাঁদের বাড়িগুলিতে সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি লিমিটেডের নাগরাকাটার স্টেশন ম্যানেজার সাগর বসু বলেন, পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের তথ্য অনুয়ায়ী মডেল ভিলেজে লোক থাকে এমন বাড়ির সংখ্যা ৫৫৭। কিন্তু, সেগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময় পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করতে গিয়ে আমাদের কর্মীদের অসুবিধায় পড়তে হয়। এমনও দেখা গিয়েছে, যাঁর নামে বাড়ির অনুমোদন রয়েছে, তিনি বাড়িতে থাকেন না। তিনি আরও বলেন, সংযোগ দেওয়ার সময় শিবিরে যে ২৫৩ জন আবেদনকারী এসেছিলেন তাঁদের সংযোগ দেওয়ার কাজ হয়ে গিয়েছে। বাকিদের বলা হয়েছিল, বারবার শিবির করে সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই তাঁরা যেন নিজেরাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু, পরবর্তীতে কেউ তেমনভাবে এগিয়ে আসেননি।

বিদ্যুৎ কর্তাদের বক্তব্য অবশ্য মানতে রাজি নন এলাকার অনেকেই। অজিত মুন্ডা নামে মডেল ভিলেজের এক বাসিন্দা বলেন, এখানে পরিবার নিয়ে থাকি। কিন্তু আমার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। আবেদন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্রও জমা দিয়েছিলাম। বিদ্যুৎ অফিসেও যাই। অফিস থেকে বলা হয়, মিটার শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন করে এলেই সংযোগ দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু, তারপর ৩-৪ মাস পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ পেলাম না। বৈজু লোহারা নামে ঘরের দখল পাওয়া এক ব্যক্তি বলেন, আমাকে যেখানে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে তার পাশেই জঙ্গল। এই অবস্থায় পরিবার নিয়ে বিদ্যুৎ ছাড়া কাটানো খুব কষ্টকর। এছাড়া, আরও অনেক সমস্যা রয়েছে। তাই মডেল ভিলেজের ঘরে থাকি না। আমার মতো আরও অনেকেই ঘর পেলেও ওমুখো হননি। জঙ্গলের দিকের বাড়িগুলিকে অন্যত্র না সরালে সমস্যা রয়ে যাবে।

মডেল ভিলেজের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগে ২০০-র মতো সৌরবাতির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেগুলির বেশিরভাগের সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ইত্যাদি চুরি গিয়েছে। এদিকে, পাশেই গরুমারা জঙ্গল। ফলে যেসমস্ত পরিবার সেখানে থাকেন অথচ বিদ্যুৎ পাননি, তাঁদের খুব সমস্যার মধ্যে কাটাতে হচ্ছে। জঙ্গল থেকে প্রায় প্রতি সন্ধ্যাতেই হাতির দল এলাকায় চলে আসে। এমনকি মডেল ভিলেজের মধ্যে হাতি ঢোকার ঘটনাও বহুবার ঘটেছে। কৈলাস গোপ নামে বাগানের এক শ্রমিক নেতা বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের কাজটি যাতে শেষ করে ফেলা হয় সেজন্য প্রশাসন ও বিদু্য়ৎ দপ্তরকে আমরাও বলেছি। এছাড়া, মডেল ভিলেজে আরও নানা সমস্যা রয়েছে। সেসবের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এ ব্যাপারে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য লতিফুল ইসলাম বলেন, যাঁরা এখনও বিদ্যুৎ পাননি, তাঁদের সংযোগ দেওয়ার জন্য ফের শিবির করার পরিকল্পনা চলছে।