সন্ধ্যা ঘনাতেই আপনাগাঁও যেন আঁধারগাঁও

73

মহম্মদ হাসিম, বাগডোগরা : দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সাত দশকেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। কিন্তু নকশালবাড়ি ব্লকের অন্তর্গত আপার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্যাংডুবি সংসদ এলাকার আপনাগাঁওয়ের বাসিন্দারা আজও বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ব্যাংডুবি মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিস (এমইএস) কেন্দ্র থেকে এখানকার বাসিন্দাদের জন্য বিদ্যুৎ পরিষেবার ব্যবস্থা করা হলেও তা দিনের কিছুটা সময়ে মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার বিদ্যুৎ পরিষেবার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের তরফে আজ পর্যন্ত কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিদায়ি প্রধান কাঞ্চন কুশওয়া অবশ্য বলেন, এলাকায় বিদ্যুতের সমস্যা মেটাতে আমি চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু জায়গাটি বাগান এলাকা হওয়ায় সমস্যা মেটানো যায়নি।

ব্যাংডুবি সংসদের আপনাগাঁও এলাকাটি আপার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এলাকাটির চারিদিকে চা বাগান এবং বনাঞ্চল রয়েছে। এখনও সেখানে বিদ্যুৎ পরিষেবা না পৌঁছানোয় বাসিন্দারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহেলাকে দায়ী করেছেন। আপনাগাঁও গ্রামের সামনেই ব্যাংডুবি আর্মি ক্যাম্পের পাশাপাশি কমলপুর চা বাগান, বাগডোগরা বনাঞ্চল রয়েছে। এই বনাঞ্চলটি হিংস্র জীবজন্তুতে পরিপূর্ণ। ফলে ব্যাংডুবি সংসদের আপনাগাঁওয়ের বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে চলেছেন। রাতদিন এখানে জংলি শুয়োর, চিতাবাঘের হানাদারি লেগেই থাকে। বাগানের জায়গা হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না। বাগানের মালিকের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই ঘর খালি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নিজস্ব বাস্তুভিটা না থাকায় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি নানা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

- Advertisement -

যদিও আয়তনে খুব ছোট এই গ্রাম। জনসংখ্যাও কম। মাত্র ১০০। বাসিন্দারা  প্রায় সকলেই বাগানে শ্রমিকের কাজ  করেন।  বন্যপ্রাণীর আক্রমণের ভয়ে দিনের আলো ঢলার আগেই ঘরে ফিরতে বাধ্য হন তাঁরা। বেশ কয়েকজন তো এই অসুবিধের জন্য গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলেও গিয়েছেন। গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান কিন্তু বাগডোগরা শহরের খুব কাছে। মাত্র চার কিলোমিটার দূরে। তা ছাড়া গ্রামের পাশেই কিছুটা দূরেই আছে বাগডোগরা বিমানবন্দর এবং শিলিগুড়ি লাগোয়া এশিয়ান হাইওয়ে-টু। তাও বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই এলাকা। বহুবার বলেও, অনেক অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই ২০ বছর ধরে আলো ঝলমলে রিসর্ট, হোটেল রয়েছে।

গ্রামের এই সমস্যা নিয়ে মুখ খুলেছেন রমেশ ওরাওঁ। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমাকে গ্রাম ছাড়তে হয়েছে। শ্রমিকদের ঘরগুলির অবস্থা খুবই বেহাল। মাসিক ৩০০ টাকা হারে আমাদের বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে এমইএস থেকে। বাড়িতে মাত্র তিনটা বাল্ব জ্বালাতে পারব। তার বেশি নয়। দিনে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা পাওয়া যায় না। কুয়োর জলই একমাত্র ভরসা। সমস্যা মেটানোর দাবিতে রমেশবাবুর মতো অনেকেই সরব হয়েছেন।