দেবীর বোধন কবে, জানে না বন্ধ বাগান

- Advertisement -

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া : ছেলেমেয়েদের নতুন জামাকাপড় তো দূরের কথা, পুজোয় যে বেলুন বা বাঁশি কিনে দেবেন, তেমন সামর্থ্যও নেই কাঁচা লাইনের বাসিন্দা বন্ধন নায়েকের। উপার্জনের পথই বন্ধ রয়েছে এক বছর ধরে। তাই পুজোর আগে জামাকাপড় কেনা দূরের কথা, এ বছর দেবীর বোধনের দিন কবে, সেটাও জানেন না তিনি। পুজো নিয়ে ভাবার সাহস নেই বদিবাড়ি লাইনের বাসিন্দা সোনামতি রাউতিয়ারও। আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া চা বাগানের মূল দুটি ডিভিশনের আড়াই হাজারেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারীর মুখে তাই হাসি নেই। নতুন জামাকাপড় নয়, পুজোর আগে রুজিরুটি নিয়ে ভাবছেন তাঁরা।

বাগানটা যখন খোলা ছিল, দিনগুলি ছিল অন্যরকম। পুজোর আগে বোনাস পেয়ে কেনাকাটা করতে ছুটতেন ওই চা বাগানের শ্রমিক-কর্মচারীরা। কিন্তু বাগান বন্ধ হওয়ার পর থেকেই ছবিটা পালটে গিয়েছে। এখন কাঁচা চা পাতা তুলে বিক্রি করে সংসার চালাতে হচ্ছে তাঁদের। এক কেজি কাঁচা পাতা তুললে মিলছে দশ টাকা। তাই অনেকেই ছুটছেন নদী থেকে বালিবজরি তুলতে। কিন্তু অনেকের বরাতেই জোটে না সেই কাজ। রুজিরুটির সংস্থানে যাঁরা ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন, লকডাউন শুরু হওয়ার পর তাঁরাও ঘরে ফিরেছেন। ফলে সমস্যা আরও বেড়েছে। সমস্যা শুরু হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই। সপ্তাহের পর সপ্তাহ মাইনে বকেয়া পড়ছিল শ্রমিকদের। একসময় পথে নেমে আন্দোলন শুরু করেন তাঁরা। অক্টোবর মাসে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাগান থেকে পাততাড়ি গোটায় ডানকানস টি কোম্পানি। এরপরই আঁধার নেমে আসে বাগানে।

ওই বাগানের জটেশ্বর ডিভিশনের অবস্থা অবশ্য অপেক্ষাকৃত ভালো। শ্রমিকরা কাঁচা পাতা তুলে বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করলেও এ বছর নিজেরাই বোনাসের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু বোনাস জোটেনি এনজি ডিভিশন এবং ওজি ডিভিশনের আড়াই হাজারেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারীর কপালে। কর্মহারা শ্রমিক বিসনি টোপ্পো বলেন, পুজো বলতে আমরা এখন একটা পুজো নিয়ে ভাবছি। তা হল পেটপুজো। পলেস্তারা খসে পড়া, দেওয়ালে ফাটল ধরা শ্রমিক আবাসনের বারান্দায় বসে মোটা চালের ভাত খাচ্ছিল কাঁচা লাইনের বাসিন্দা মিরাজ নায়েকের তিন শিশুসন্তান। তাদের মা ডিমের তরকারি রেঁধেছিলেন। ডিমের ঝোল আর ভাত পেয়ে এখন তারা খুশি। মাছ-মাংস এখন তাদের কাছে স্বপ্নের সমান।

- Advertisement -