পুজোর আনন্দ ম্লান জারিধরলায়

কৌশিক সরকার, দিনহাটা : আরতিদের এখন আর আরতি দেখারও সুযোগ হয় না। আগে গ্রামে পুজো হলেও এখন পুজো হয় না। তাই দেবী দর্শনের জন্য নৌকায় পেরোতে হয় দুটো নদী, নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে হাঁটতে হয় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ। কিন্তু গ্রামে ফিরে আসতে হয় সন্ধ্যার আগেই। কারণ, তারপর আর ঘাটে নৌকা থাকে না। এর সঙ্গে আছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিধিনিষেধও। তাই সন্ধ্যায় দেবীর আরতি বা ঝলমলে আলো দেখার সুযোগও মেলে না অধিকাংশের বলে অভিযোগ।

উৎসবের আনন্দযজ্ঞে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে না পারায় মন ভালো নেই কারও। তাই আক্ষেপ শোনা যায় দিনহাটার গিতালদহের নদী বিচ্ছিন্ন জারিধরলা গ্রামের বাসিন্দাদের মুখে। তাঁদের কথায়, গ্রামে বসে থাকলে কখন উত্সব আসে আর কখন যায়, তা বোঝাও যায় না। এখানে নেই পুজোর ব্যস্ততা, সাজগোজ, অঞ্জলি বা ছোটোদের ছোটাছুটি। নদী বিচ্ছিন্ন বাংলাদেশের কোলঘেঁষা এই প্রত্যন্ত এলাকার প্রসঙ্গ উঠলেই লোকে বলে সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর পাড়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পুজোর আনন্দ এখানে অনেকটাই ম্লান। তবু নৌকায় চেপে, হেঁটে কয়েক কিলোমিটার পথ পেরিয়ে গিতালদহের হরিরহাটে এসে দেবীদুর্গার কাছে তাঁদের দুর্দশা মোচনের প্রার্থনা জানান জারিধরলা গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ।

- Advertisement -

এ গাঁয়ের বাসিন্দা মণীশ বর্মন, প্রমোদ বর্মন, চন্দনা সেন, আরতি বর্মন প্রমুখ জানান, আগে গ্রামে পুজো হত। কিন্তু নানা কারণে পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন পুজো দেখতে হলে প্রথমে গিরিধারী নদী (গিদারি) পেরোতে হয়। তারপর প্রায় তিন কিলোমিটার নদীর চর হেঁটে পেরোতে হয়। এরপর রয়েছে ধরলা নদী। নৌকায় সে নদী পেরোনোর পর আবার হাঁটতে হয় আধা কিলোমিটারের মতো। শেষে আবারও ধরলা নদীর আর একটা শাখা পেরিয়ে আসতে হয় ভারবান্দায়। সেখান থেকে হেঁটে বা টোটোতে চেপে আসতে হয় হরিরহাটে দেবীদর্শনের জন্য। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার আগে ঘরে ফিরতে হয়। কারণ, রাতে ঘাটে নৌকা থাকে না। তার ওপর রয়েছে বিএসএফের বিধিনিষেধ। পুজো নিয়ে যখন চারদিকে সাজোসাজো রব তখন নদী বিচ্ছিন্ন এই গ্রামের ছবিটা অনেকটাই অন্যরকম। বাঙালির সবচেয়ে বড়ো উৎসবের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু শম্পা, কাকলি, তাপসী, মণীশ, প্রমোদরা আর পাঁচটা দিনের মতোই এখনও ব্যস্ত জীবনসংগ্রামে।