জটেশ্বর : জটেশ্বর বাজার এলাকা ছাড়া জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় এখনও জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের পানীয় জল পরিষেবা চালু হয়নি। ওই পঞ্চায়েতের বাজার এলাকা ছাড়া প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে আজও জল পরিষেবা চালু হয়নি। পরিষেবা চালুর আশ্বাস পেলেও এখনও তা পরিপূর্ণ হয়নি। ব্লকের প্রত্যন্ত এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় তিরিশ হাজার মানুষকে অপরিশোধিত জল কিংবা কেনা জলের উপরই ভরসা করতে হয়। তাই ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের পানীয় জল পরিষেবা চালুর দাবি উঠেছে।

জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ধুলাগাও, দলগাঁও বস্তি, কড়াইবাড়ি সহ বেশ কয়েকটি মৌজা মিলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এই এলাকাগুলির উভয় দিকেই বয়ে গিয়েছে মুজনাই, বীরকিটি, কাজলি সহ একাধিক নদী। এলাকাগুলি নদী বেস্টিত হওয়ায় সারাবছরই জল সমস্যায় ভোগেন বাসিন্দারা। পরিস্রুত পানীয় জলের অভাবে তৃষ্ণা মেটাতে অপরিশোধিত জল খেয়ে স্থানীয়রা পেটের অসুখে ভুগছেন বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা তথা ঠাকুর পঞ্চানন স্মৃতি প্রসার সমিতির জটেশ্বর শাখার সভাপতি কার্তিকচন্দ্র রায় বলেন, জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাজার এলাকা ছাড়া পিএইচইর পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই। প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি দেখলে এলাকাবাসী উপকৃত হবেন।  স্থানীয় বাসিন্দা জামালউদ্দিন মিয়াঁ বলেন, জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের আলিনগর, ধুলাগাঁও, দলগাঁও বস্তি, করাইবাড়ি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও পরিস্রুত পানীয় জল মেলে না। বাধ্য হয়ে জল কিনে খেতে হয়। সেই কেনা জল কতটুকু ভালো তা আমাদের জানা নেই। তবুও প্রশাসন কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয় না।

জটেশ্বর এলাকার শিক্ষক অনিমেষ রায় বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাটির সব দিকেই রয়েছে নদী। বর্ষাকালে গোটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাটির উপর দিয়ে বন্যার জল বয়ে যায়। সেসময় বাধ্য হয়ে অপরিস্রুত জল খেতে হয় এলাকাবাসীকে। ফলে সারাবছর পেটের অসুখে ভোগেন বহু মানুষ। প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত। জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাঁনজো মাঝি বলেন, এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকায় অপরিশোধিত জলই ভরসা এলাকাবাসীর। দাবিটি বিডিও’র মাধ্যমে জেলা শাসককে জানাব। পানীয় জলের দাবির বিষয়ে ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্মারকলিপি পেলে জেলা শাসককে জানাব।