প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : দিনহাটার হাটবাজারগুলিতে এখনও কোনোরকম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। অথচ প্রায়ই এই সকল হাটবাজারে ছোটো-বড়ো অগ্নিকাণ্ড হচ্ছে। দিনহাটা শহরের মধ্যে একটি অন্যতম ব্যবসায়িক স্থান চওড়াহাট বাজার। এখানে প্রায় ১০০০-এর মতো স্থায়ী ব্যবসায়ী এবং প্রায় ২৫০ জন অস্থায়ী ব্যবসায়ী রয়েছেন। বাজারটি দুটি ভাগে বিভক্ত, এদের মধ্যে একটিকে পুরাতন চওড়াহাট বাজার এবং অন্যটিকে নতুন চওড়াহাট বাজার বলে জানেন সকলে।

তবে পুরাতন চওড়াহাট বাজারেই দোকানের পরিমাণ বেশি এবং এখানের অধিকাংশ দোকানে দাহ্যবস্তু মজুত থাকে। কেননা এই বাজারে রয়েছে কাপড়ের দোকান, গালামালের দোকান, হোটেল ও অন্যান্য সামগ্রীর দোকান। ব্যবসায়ীদের দাবি, অতীতেও এই বাজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। অথচ ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রশাসন এখনও পর্যন্ত কোনোরকম অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা করেনি। কাপড় ব্যবসায়ী ঘুতু দেবনাথ জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য পানীয় জলের কোনোরকম উৎসই তৈরি হয়নি এখনও। তাই সারাদিন ব্যবসা শেষ করে রাতে ঘুমোতে গিয়ে দোকানের চিন্তা পিছু ছাড়ে না। আরেক ব্যবসায়ী সুমিত সাহা বলেন, আমরা চাই প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করুক। নয়তো আমরা সকল ব্যবসায়ী আবারও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব।

- Advertisement -

দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী বলেন, দিনহাটা মহকুমায় ছোটো-বড়ো মিলিয়ে প্রায় ২৯টি হাটবাজার রয়েছে। কোথাও এখনও পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। দিনহাটার গিতালদহ, সিতাই, ভেটাগুড়ি, নাজিরহাট, নয়ারহাট, পেটলার মতো বড়ো হাটবাজারগুলিতে নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির স্টল রয়েছে এবং তারা সেই দোকানগুলি থেকে প্রতিদিন রাজস্ব আদায় করছে। অথচ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাদানের ন্যূনতম ব্যবস্থা এখনও গড়ে উঠেনি। শুধুমাত্র দিনহাটা নতুন চওড়াহাট বাজারে একটি ১৫,০০০ লিটার জলের রিজার্ভার রয়েছে। সেটিও সংস্কারের অভাবে মাঝেমধ্যেই অকেজো হয়ে পড়ে।

রানা গোস্বামী বলেন, আমরা চাই প্রত্যেকটি হাট ও বাজারে সেলোপাইপ লাগানোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ওয়াটার রিজার্ভার করা হোক। যাতে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আমরা আবার এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতিকে জানাব। পাশাপাশি হাটবাজারগুলিতে যাতে দমকলের গাড়ি সহজে প্রবেশ করতে পারে সে বিষয়ে বাজার কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য রাখা প্রযোজন। জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির সম্পাদক উত্তম ভৌমিক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই প্রকল্প রূপায়ণে যথেষ্ট ফান্ডের প্রয়োজন রয়েছে। তা পেলে অবশ্যই আমরা সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হব।