শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : একসময় ফিশ কমপ্লেক্সে সৌন্দর্যায়নের জন্য পার্ক তৈরি করা হয়েছিল। ফোয়ারার ব্যবস্থাও ছিল। বর্তমানে সেই ফোয়ারার জায়গা আড়তদার ও কমপ্লেক্সে আসা ক্রেতাদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভগ্নদশায় থাকা সেই পার্কই এখন হয়ে উঠেছে ডেঙ্গুর আঁতুড়। আড়তদারদের অভিযোগ, পার্ক সংস্কারের জন্য রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির কাছে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কোনো কাজই হয়নি। পার্কটি দ্রুত সংস্কার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মার্কেট কমিটির সচিব অনিলকুমার শর্মা।

ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল কমপ্লেক্স নিয়ে ১৯৮৩ সালে রেগুলেটেড মার্কেট চালু হলেও ১৯৯৩ সালে সেখানে ফিশ কমপ্লেক্স চালু হয়। তখন ফিশ কমপ্লেক্সের মাঝখানে সৌন্দর্যায়নের জন্য একটি পার্কও তৈরি করা হয়। মাঝে বসানো হয় ফোয়ারা। বহুদিন আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই ফোয়ারার জায়গায় জল জমে রয়েছে। আশপাশের চত্বর ভরে রয়েছে আগাছা ও আবর্জনার পাহাড়ে। আড়তদার সুরেন্দ্র মাহাতো বলেন, সারাদিনে বহু মানুষ এই আড়তে যাওয়া-আসা করেন। একসময়ে এই পার্ক আমাদের কমপ্লেক্সের শোভা বাড়াত। কিন্তু এখন পার্কের যেখানে-সেখানে জল জমে থাকায় ডেঙ্গুর আঁতুড়ে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরাও। অলোক রায় নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, এটা যে একটা পার্ক দেখে তো তা মনে হচ্ছে না। পার্কের পরিবেশের উন্নতির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দ্রুত কিছু ভাবা উচিত।

শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেট হোলসেল ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েনের সদস্য জয়প্রকাশ সিনহা বলেন, পার্কের ব্যাপারে নজর দেওয়ার জন্য মার্কেট কমিটির কাছে আমরা বহুবার অনুরোধ করেছি। এমনকি আমরা নিজেরাই একবার পার্কটি পরিষ্কার করেছি। কিন্তু মার্কেট কমিটির তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হল না। শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির সচিব অনিলকুমার শর্মা বলেন, সত্যিই পার্কটি ডেঙ্গুর আঁতুড়ে পরিণত হয়েছে। তবে আড়তদারদের দাবিমতো পার্কের সংস্কারের ব্যাপারে আমরা ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করেছি। পার্কে ফোয়ারার পাশে একটি হাইমাস্ট বাতি লাগানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।