মালদা শহরে নেই ফ্লাড সেন্টার, স্কুল হয়ে যায় ত্রাণশিবির

352

হরষিত সিংহ, মালদা : মালদা শহরে বন্যাদুর্গতদের জন্য কোনো ফ্লাড সেন্টার নেই। যার জেরে প্রতি বছর মহানন্দা নদীর জল বাড়তেই অসংরক্ষিত এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেন শহরের বিভিন্ন স্কুলভবনগুলিতে। বন্যাদুর্গতরা স্কুলভবনে আশ্রয় নেওয়ায় শহরের বেশ কিছু স্কুলের পঠনপাঠন প্রায় এক থেকে দেড় মাস ধরে বন্ধ থাকে। সমস্যায় পড়তে হয় স্কুলের পড়ুয়াদের। প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় অনেকটা পিছিযে পড়ে ত্রাণশিবির হওয়া স্কুলগুলির পড়ুয়ারা। এমন অবস্থায বন্যাদুর্গতদের জন্য একটি স্থায়ী ত্রাণশিবির বা ফ্লাড সেন্টারের দাবি তুলেছেন শহরবাসী।

মহানন্দা নদীর জল বাড়তেই ইতিমধ্যে নদী তীরবর্তী বস্তিগুলি জলের তলায় চলে গিয়েছে। ইংরেজবাজার পুরসভার ৮, ৯, ১২,১৩ ওয়ার্ডের নদী তীরবর্তী বস্তিবাসীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয নিয়েছেন। বেশ কিছু পরিবার রাস্তার পাশে পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করে রয়েছে। অনেকেই আবার বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছেন। ইংরেজবাজার শহরের প্রায় চারটি ওয়ার্ড মহানন্দা নদীর একেবারে ধারে রয়েছে। প্রায় দু’শোর বেশি পরিবার বর্তমানে বাড়ি তৈরি করে নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় বসবাস করছে। প্রতিবছর বর্ষার মরশুমে মহানন্দা ফুলেফেঁপে উঠলেই  বাড়িঘর ছেড়ে পরিবারগুলিকে অন্যত্র চলে যেতে হয়। কোনো ফ্লাড সেন্টার না থাকায়  বাধ্য হয়ে শহরের স্কুলভবনগুলিতে তাদের আশ্রয দেওয়া হয়। বন্যাদুর্গতরা আশ্রয় নেওয়ায় বন্ধ হযে পড়ে স্কুলগুলির পঠনপাঠন। মালদা শহরের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকান্দ বিদ্যামন্দির, ললিতমোহন শ্যামমোহিনী স্কুল, অক্রুরমণি করোনেশন সহ বেশ কয়েকটি স্কুল ত্রাণশিবিরে পরিণত হয়। প্রায় দুই বছর আগে মহানন্দার জল বেশি বেড়ে যাওযায সেই বছর বেশি সংখ্যক স্কুলে ত্রাণশিবির করা হয়। এই মরশুমে এখন পর্যন্ত মহানন্দা বিপদসীমা পার না করতেই কয়েকশো পরিবার বাড়িছাড়া। এবারেও বন্যার আশঙ্কা করছেন শহরের নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। বন্যা হলেই তারা আবার উঠে আসবেন শহরের বিভিন্ন স্কুলে।

- Advertisement -

ললিতমোহন শ্যামমোহিনী স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অসিতকুমার চৌধুরি বলেন, প্রায় প্রতিবছর আমাদের স্কুলে বন্যাদুর্গতরা আশ্রয নেয়। সেই সময় আমাদের স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ থাকে । দুর্গতরা আমাদের স্কুলে প্রায় এক মাস পর্যন্ত থাকেন। আমরা স্কুলের পক্ষ থেকেও তাঁদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করি। তবে পড়াশোনার ক্ষতি হয় সেই সময়। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ফ্লাড সেন্টার তৈরি করলে বন্যাদুর্গতদের জন্য সুবিধা হয। রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের মহারাজ স্বামী সুরাত্মানন্দ বলেন, গত দুই বছর আগে আমাদের স্কুলে বন্যাদুর্গতদের জন্য শিবির করা হয়েছিল। সেই সময় আমাদের স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ ছিল। মহানন্দা নদীতে জল বাড়তেই বসতিগুলি ডুবে যাচ্ছে। তারা নদীগর্ভে বাস করছে, এই বিষয়টি প্রশাসনকে দেখা উচিত। এছাড়াও একটি ফ্লাড সেন্টার প্রয়োজন রয়েছে। ফ্লাড সেন্টার থাকলে স্কুলগুলির ওপর চাপ কমবে। ইংরেজবাজারের বিধায়ক তথা পুরসভার চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, গত দুই বছর আগে  বন্যায় ত্রাণশিবির নিযে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই সময় শহরের মধ্যে একটি ফ্লাড সেন্টার তৈরির আবেদন জানানো হয়েছিল রাজ্য সরকারের কাছে। আমরা ইতিমধ্যে শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডে একটি সরকারি জাযগা চিহ্নিত করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদন পেলে দ্রুত সেখানে ফ্লাড সেন্টার তৈরি করা হবে। বর্তমানে শহরে কোনো শিবির না থাকায় বাধ্য হয়ে বন্যাদুর্গতদের শহরের স্কুলগুলিতে কিছুদিনের জন্য আশ্রয় দেওয়া হয়।