অনুদান নেই, ঋণ নিয়ে ঘর বানান উপভোক্তারা

55

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : হাউজিং ফর অল প্রকল্পে পুরসভা থেকে টাকা মেলেনি। ফলে বাধ্য হয়ে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ঘরের ভিত তৈরি করছেন আলিপুরদুয়ার পুরসভার হাজার দেড়েক উপভোক্তা। অনেকে সাত-আট মাস আগে ঘরের ভিত ও অন্যান্য কাজ শেষ করলেও পুরসভা টাকা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় তাঁদের ক্ষমতাও নেই যে, নিজেরাই ঘর তৈরি করবেন। হাউজিং ফর অল প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিজেপি। তবে পুরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই টাকা ছাড়া শুরু করেছেন।

এবিষয়ে আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর বলেন, সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী পুরসভার টিম উপভোক্তার বাড়ি গিয়ে ভিত তৈরি হয়েছে কি না, তা দেখছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা টাকা ছাড়া শুরু করেছি। তবে প্রসেনজিৎবাবু টাকা ছাড়ার কথা বললেও এলাকার বিধায়ক কিন্তু অন্য কথা বলছেন। বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল অভিযোগ করেন, যাঁরা বিরোধী দল করেন, বেছে বেছে তাঁদেরই ঘর তৈরির টাকা দিচ্ছে না। আমরা উপভোক্তাদের টাকা দ্রুত মেটানোর দাবিতে পুরসভা অভিযান করব।

- Advertisement -

হাউজিং ফর অল নিয়ে বিধায়কের অভিযোগেই সুর মিলিয়েছেন বাম বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিন্দ্য ভৌমিক। তাঁর অভিযোগ, এবার বিধানসভা ভোটের আগে উপভোক্তাদের বাড়িতে গিয়ে ঘর তৈরির শিলান্যাস করেছিলেন শাসকদলের নেতারা। কিন্তু ভোট শেষ। তাই ঘর তৈরির টাকাও দিচ্ছে না পুরসভা। শুধু তাই নয়, শহরে এমনও অনেক বাসিন্দা রয়েছেন, যাঁরা পাঁচ-সাত বছর আগে ঘর তৈরি শুরু করলেও আজও তাঁদের ঘরের সব কিস্তি পাননি। এটা পুরসভার ব্যর্থতা।

আলিপুরদুয়ার পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে আলিপুরদুয়ার পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডের জন্য ১ হাজার ৯০০ জন উপভোক্তার জন্য হাউজিং ফর অলের ঘর বরাদ্দ হয়। এবছর ২২ ফেব্রুয়ারি পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর তত্কালীন চেয়ারম্যান মিহির দত্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সেখানে তিনি সব উপভোক্তাকে হাউজিং ফর অল-এর ঘর তৈরি করতে বলেন। এমনকি তিনি নিজে সমাজনগর, কলেজপাড়া প্রভৃতি এলাকায় উপভোক্তাদের বাড়ি গিয়ে নারকেল ফাটিয়ে ঘরের কাজের শিলান্যাসও করেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ঘরের ভিত তৈরি হলেই কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকে যাবে। কিন্তু উপভোক্তাদের অভিযোগ, পুরসভার কথা শুনে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। কলেজপাড়ার বাসিন্দা বিনোদ বাসফোর বলেন, ২০১৮ সালে হাউজিং ফর অল-এর একটি ঘর আমার মায়ের নামে বরাদ্দ হয়েছিল। এতদিন টাকার অভাবে তা করতে পারিনি। দুমাস আগে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ঘরের ভিত তৈরি করি। পুরসভা বলেছিল ভিত তৈরি হলে প্রথম কিস্তির টাকা দেবে। কিন্তু এখনও কোনও টাকা পাইনি। উলটে এখন পাওনাদাররা টাকার জন্য বাড়িতে আসছেন।

এদিকে, উপভোক্তাদের এই ক্ষোভকে হাতিয়ার করতে চাইছে বিজেপি। শাসকদলের নেতাদের জন্যই উপভোক্তারা টাকা পাচ্ছেন না বলে বিরোধীরা প্রচার শুরু করেছে।