রায়গঞ্জ মেডিকেলের হোমিওপ্যাথি আউটডোরে চিকিৎসক নেই

রায়গঞ্জ : স্থায়ী চিকিৎসক নেই। অস্থায়ী চিকিৎসকরা নিয়মিত বহির্বিভাগে বসেন না। ফলে রোগীদের ওষুধ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্টরাই ওষুধ দিচ্ছেন। বহির্বিভাগে বিভিন্ন রোগের ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে না। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আযুর্বেদিক ও হোমিয়োপ্যাথি চিকিৎসার বহির্বিভাগের বর্তমান অবস্থা এরকমই। এই বিভাগে এলে অনেক ক্ষেত্রে অ্যালোপ্যাথ বিভাগে পাঠানো হচ্ছে বলেও রোগীদের অভিযোগ।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, সরকারি নির্দেশে আয়ুর্বেদিক বহির্বিভাগের স্থায়ী চিকিৎসক গত বছর নভেম্বর মাসে বদলি হয়ে গিয়েছেন। একইভাবে প্রায় ১০ বছর আগে হোমিওপ্যাথি বহির্বিভাগের স্থায়ী চিকিৎসককেও বদলি করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রায়গঞ্জের বিন্দোল স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা মাঝেমধ্যে ওই দুটি বহির্বিভাগে এসে চিকিৎসা করেন। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিকচন্দ্র মণ্ডল এসব অভিযোগ স্বীকারও করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই এই অভিযোগ আসছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গৌতমকুমার মণ্ডল বলেন, স্থায়ী চিকিৎসকের অভাবে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর অন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের ওই দুটি বহির্বিভাগে বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছেন। সেখানে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর যত দ্রুত সম্ভব ওই দুটি বহির্বিভাগে স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের চেষ্টা করছে।

- Advertisement -

রোগীদের অভিযোগ, ছুটির দিন বাদে বাকি দিনগুলোতে ওই দুটি বহির্বিভাগে একজন করে ফার্মাসিস্ট ওষুধ দেন। কখনও কোনও সপ্তাহে একদিন, আবার কোনও সপ্তাহে দুদিন দুটি বহির্বিভাগে চিকিৎসক বসেন। ফলে বাকি দিনগুলোতে ফার্মাসিস্টরাই রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ওষুধ দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের অভাবে ফার্মাসিস্টরা জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের অ্যালোপ্যাথির বহির্বিভাগেও পাঠিয়ে দেন। সাত-আট মাস ধরে দুটি বহির্বিভাগে বিভিন্ন রোগের ওষুধের অভাবে ফার্মাসিস্টরা রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন, উঠেছে এমন অভিযোগও। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিকের দাবি, শুধু স্থায়ী চিকিৎসক নয়, গত এক দশক ধরে দুটি বহির্বিভাগে একজন করে নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

রায়গঞ্জের বিন্দোলের বাসিন্দা গোবিন্দ দাস বলেন, চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ওই দুটি বহির্বিভাগে ফার্মাসিস্টরা ওষুধ দিচ্ছেন। জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। হেমতাবাদের বাসিন্দা জ্যোৎস্না রায় বলেন, আমার তিন বছরের বাচ্চাকে জন্মের পর থেকেই হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়াই। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের আউটডোরে টিকিট কাটতে এসে স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, হোমিওপ্যাথি বহির্বিভাগ বন্ধ। অ্যালোপ্যাথি ডাক্তার দেখান। শেষ পর্যন্ত রায়গঞ্জ শহরের এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে দেখিয়ে ওষুধ কিনতে বাধ্য হই।