জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হবার পরেও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসের পড়ুয়াদের হস্টেল তৈরি না হওয়ায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষের দাবি, টেন্ডার সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই হস্টেল নির্মাণের কাজ শুরু করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য তাঁরা পূর্ত দপ্তরকে অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে হস্টেল নির্মাণ না হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন।

পড়ুয়াদের দাবি, উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, কালিম্পং, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলা থেকে যে সব ছাত্রছাত্রী এখানে পড়তে আসেন তাঁদের অধিকাংশই আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল পরিবারের সদস্য। হস্টেল তৈরি না হওয়ায় বুনিয়াদপুর, গঙ্গারামপুর, কোচবিহারের রামপুর, আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা, জলপাইগুড়ির গ্রামাঞ্চলের ছেলেমেয়েদের মেস করে থাকতে হচ্ছে। ফলে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক-অভিভাবিকাদের বাড়তি আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে। কবে জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি আবাস নির্মিত হবে- তা অনিশ্চিত। ইতিমধ্যেই একবার টেন্ডার বাতিল হয়েছে। দ্বিতীয়বার টেন্ডার প্রক্রিয়া চলেছে। ছাত্র সংগঠনগুলির তরফেও হস্টেল তৈরি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য হস্টেল নির্মাণের এক একর জমিতে গোরু চরে। শুধু হস্টেলই নয়, ক্যাম্পাসের মাঠ নির্মাণের কাজও শুরু হয়নি।

ক্যাম্পাসের ছাত্র সংসদের সভাপতি সৃঞ্জয় দেবনাথ বলেন, রাজ্য সরকার জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসের উন্নতিতে সচেষ্ট। কিন্তু ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের আবাস নির্মাণের বিষয়ে উদাসীন। সরকারের তরফে ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হবার পরেও দুই বছর ধরে হস্টেল নির্মিত না হওয়ার বিষয়টি হতাশার। এর ফলে চার শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁদের আর্থিক সামর্থ্য খুবই সীমিত। আর্থিক চাপে তাঁদের অভিভাবক-অভিভাবিকাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। ক্যাম্পাসের পড়ুয়া তাপস রায় এবং বাদল রায় জানালেন, আবেদন-নিবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি। অথচ কর্তৃপক্ষ হস্টেল নির্মাণের বিষয়ে আন্তরিক নয়। ভূগোলের ছাত্রী প্রতিমা তরফদার বুনিয়াদপুরের বাসিন্দা। তিনি বলেন, ছাত্রী আবাস না থাকায় মেস করে থাকতে হচ্ছে। ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন ৫০ টাকা করে টোটো ভাড়া দিতে হয়।

একই সুরে ফালাকাটার নন্দিতা রায় জানান, ছাত্রী আবাস হলে তাঁদের পড়াশোনা করবার ক্ষেত্রে সুবিধা হত। তাঁরা আর্থিক দিক দিয়ে উপকৃত হতেন। গঙ্গারামপুরের মোনালিসা মণ্ডল জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে হস্টেল নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা অধরা। একই দাবিতে সরব হয়েছেন চুমকি রায়। এ প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসের দাযিত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডঃ সুবীর সরকার বলেন, আমরা হস্টেল নির্মাণের বিষয়টি পূর্ত দপ্তরকে জানিয়েছি। আমরা চাই দ্রুত হস্টেল নির্মাণ করা হোক। অন্যদিকে, পূর্ত বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত হাইত বলেন, একবার টেন্ডার বাতিল হয়েছে। বর্তমানে আমরা ফের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। তা সম্পন্ন হলে কাজে হাত দেওয়া হবে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি অভিজিৎ সিনহা বলেন, দ্রুত হস্টেল নির্মাণের কাজ শুরু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।