১২ বছরেও শিল্পের দেখা নেই ইলুয়াবাড়ির শিল্পতালুকে

119

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : শিল্প যেন কুমিরছানা। এক দশক কেটে গেলেও ইসলামপুর ইলুয়াবাড়ি শিল্পতালুক সমাজবিরোধী ও নেতাদের রাজনৈতিক কার্ড খেলার আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। বাম আমলে উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় নীল-সাদা রং করে দ্বিতীয়বার এই শিল্পতালুকের উদ্বোধন হয়। কিন্তু ঘটা করে উদ্বোধনই সার। এক দশক কেটে গেলেও শিল্পতালুকে শিল্পের দেখা নেই। স্বাভাবিকভাবে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। জঞ্জালে ছেয়ে থাকা শিল্পতালুকের বেহাল দশা নিয়ে ইসলামপুর মহকুমা প্রশাসন উত্তর দিনাজপুর জেলা শিল্পকেন্দ্রের আধিকারিকদের অভিযোগ জানাবে। জেলা শিল্পকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার সুনীল সরকার শীঘ্রই পরিস্থিতির বদল ঘটবে বলে আশ্বাস দেন।

১৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে বাম আমলে শিল্পতালুকের কাজ শুরু হয়। ২০০৮ সালে শিল্পতালুকের শিলান্যাস হয়। বাম আমলেই ভোট ঘোষণার পর রাতারাতি বাম নেতা-মন্ত্রীরা শিল্পতালুকের উদ্বোধন করেন। ইসলামপুরের মতো পিছিয়ে পড়া এলাকায় এই শিল্পতালুককে নিয়ে নতুন শিল্পের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। উঠতি ব্যবসায়ীদের বড় অংশই শিল্পতালুকের দৌলতে শিল্পপতি হয়ে উঠবেন বলেও স্বপ্ন দেখাও শুরু করেন। কিন্তু ১২ বছরের বেশি কেটে গেলেও ইসলামপুর শিল্পতালুকে জঙ্গলরাজ এবং সমাজবিরোধীদের আখড়া হওয়া ছাড়া কোনও শিল্পই গড়ে ওঠেনি। সঙ্গে শিল্পতালুকের রাজনৈতিক কার্ড খেলে ব্যবসায়ীদের টোপ দেওয়া চলছে। বিগত এক দশকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয়বার শিল্পতালুকের উদ্বোধন, সরকারি কোষাগারের টাকায় ঢাক পিটিয়ে ব্যবসায়ীদের নিয়ে ঘটা করে ডজনে ডজনে বৈঠক হয়েছে। প্রতিবারই বৈঠকের পর কর্তারা শীঘ্রই শিল্পতালুক শিল্পের বাজারে ছেয়ে যাবে বলে বড় বড় ঘোষণাও করেছেন। কিন্তু বাস্তবে গোটা প্রকল্পটাই বিশবাঁও জলে। জমিজট, জমি লিজ প্রক্রিয়ায় জটিলতা থেকে শুরু করে নথিপত্রের জটিলতার কারণে এলাকার শিল্পমহল তীব্র হতাশা জানিয়েছে।

- Advertisement -

মহকুমা সদর ইসলামপুর সহ গোটা ইসলামপুর মহকুমাই রাজ্যের অন্যতম পিছিয়ে পড়া এলাকা। বেসরকারি ক্ষেত্রে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কোনও সম্ভাবনাই তৈরি হয়ে ওঠেনি। করোনা পরিস্থিতিতে পরিযায়ীদের মহকুমায় ফেরার চিত্র এলাকার আর্থসামাজিক পরিস্থিতির ফুটিফাটা রূপ প্রকাশ্যে এনে দিয়েছিল। ফলে স্বভাবতই মহকুমার ন্যূনতম শিল্পের পরিকাঠামো বা সম্ভাবনা বাস্তবে কেন রূপ পাচ্ছে না তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বাম আমলে শিল্পতালুকের সঙ্গে পাঞ্জিপাড়ায় চর্মনগরী গড়ে তোলার বিষয়ে ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু কোটি কোটি টাকার পাঞ্জিপাড়ার চামড়ার বাজারের জন্য ঘোষিত চর্মনগরীও গড়ে ওঠেনি।

চেম্বার অফ কমার্সের উত্তর দিনাজপুরের অর্গানাইজিং কমিটির সদস্য দামোদর আগরওয়াল বলেন, এলাকায় এমনিতেই শিল্প বলে কিছু নেই। শিল্পতালুকে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য শিল্প গড়ার সম্ভাবনা থাকলেও সরকারি উদাসীনতায় সবই ঠান্ডাঘরে। বর্তমানে শিল্পতালুক সামাজবিরোধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, শিল্পতালুক সমাজবিরোধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আসলে মাত্র ১৬ একর জমিতে বড় শিল্প হওয়া সম্ভব নয়। রাজনীতি বা সরকারি উদাসীনতার অভিযোগ ঠিক নয়। যাঁরা শিল্পতালুকে জমি নিয়ে শিল্প গড়বেন তাঁদের উৎসাহে খামতি থাকার কারণেই গোটা প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে। বৈঠকের পর বৈঠক করেও সমস্যা না মেটায় আমরাও কার্যত হতাশ। ইসলামপুরের মহকুমা শাসক সপ্তর্ষি নাগ বলেন, শিল্পতালুকের পরিস্থিতি নিয়ে জেলা শিল্পকেন্দ্রের আধিকারিকদের লিখিত অভিযোগ জানানো হবে। জেলা শিল্পকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার বলেন, হতাশার কিছু নেই। শিল্পতালুকে জমি ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হবে বলে সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। যাঁরাই শিল্পতালুকে শিল্প গড়তে আগ্রহী তাঁদের প্রোজেক্ট রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে। সবাই প্রোজেক্ট রিপোর্ট জমা না করার কারণেই দেরি হচ্ছে।