মোমের আলোই ভরসা ভোট কেন্দ্রে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অন্ধকার ডিসিআরসি

158

তুফানগঞ্জ, ১০ এপ্রিলঃ তখন প্রায় ভোট গ্রহণ নেওয়ার প্রায় শেষের সময়। হঠাৎ করে তুফানগঞ্জ শহরে শুরু হল বৃষ্টি। তুফানগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের ডিসিআরসি থেকে খবর পাওয়া গেল অনেক বুথে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। আবার অনেক বুথে নেই বিকল্প আলোর ব্যবস্থাও। ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোট পরিচালনার জন্য দেওয়া হয়েছে কয়েকটি মোম। কিন্তু, যেভাবে ঝড় শুরু হয়েছে, তাতে মোমও নিভে যেতে পারে। খবর পেয়ে উত্তরবঙ্গ সংবাদের প্রতিনিধি পৌঁছতেই দেখা গেল, তুফানগঞ্জ শহরের কয়েকটি বুথে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা থাকলেও, কয়েকটি বুথে টিম টিম করে জ্বলছে মোমের আলো।

বুথের গেটে ঢুকতেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান এগিয়ে এলেন। কথা বলে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে বোঝা গেল, তারা অন্য রাজ্যে নিজেদের পরিবার রেখে পেশার তাগিদে এ রাজ্যে ভোট গ্রহন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করাতে এসেছেন। তুফানগঞ্জ শহরের ভেতরের তুফানগঞ্জ পুরসভার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬৬ বুথে তাঁদের ডিউটি পড়ায় প্রথমে তারা খুব আনন্দে ছিলেন। কিন্তু, হঠাৎ করে বজ্র সহ শিলা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাঁদের বুথ প্রায় অন্ধকার হয়ে যায়। উপায়া না দেখে, কোনও রকমে বৃষ্টি মাথায় অবস্থায় বুথের গেটে দাঁড়িয়ে বুথ পহারা দিলেন। হিন্দিতে খালি বললেন আমাদের জীবন রয়েছে। পরিবার রয়েছে। আপনারা সংবাদ মাধ্যমের মানুষ একটু অন্ধকার বুথ কিভাবে আমরা পহারা দিচ্ছি সেটা লিখুন।

- Advertisement -

তাঁরা মৃদু কণ্ঠে বলেন, আর নির্বাচন যেসব আধিকারিক পরিচালনা করছেন তাঁদের কাছে শুনুন কেনও বুথে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা নেই। এক রাজ্য পুলিশের আধিকারিকের সাথে কথা বলতে বলতে তাঁর মোবাইল বেজে উঠল। ফোন করতে করতে তিনি আমাদের বললেন, সেখান থেকে শীতলকুচি কত দূর। ফোন শেষ হওয়ার পরে বোঝা গেল, তাঁর বাড়ির লোক তাঁকে নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন। কারণ তাঁর বাড়ির লোকজন হয়তো বা আজকের ঘটে যাওয়া ঘটনার খবর দেখেছেন। আর বুথের পাশে এক মহিলা বলতে লাগলেন, “গণতন্ত্রের উৎসব এখন কত নিষ্ঠুর। হায়রে ভোট।”