মুখে মাস্ক নেই, কান ধরে ওঠবস করালেন বিডিও

হরিরামপুর কুশমণ্ডি : সাপ্তাহিক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে কড়া পদক্ষেপ নিল হরিরামপুর ব্লক প্রশাসন। মাস্ক না পরে বাইরে বের হওয়ার জন্য এক পথচারীকে এদিন কান ধরে ওঠবস করান বিডিও শ্রীমান বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিরামপুরের সর্বত্র লকডাউন মানা হচ্ছে কিনা তা দেখতে শনিবার সকালে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আইসি সঞ্জীব বিশ্বাস ও বিডিও। আইসি বলেন, এদিন দু-একটি জায়গায় লকডাউন ভাঙার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। তবে লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা ধীরে হলেও মানুষ বুঝতে পারছেন। আর সেই কারণেই এদিনের লকডাউন সর্বাত্মক হয়েছে। লকডাউন এদিন সফল হয়েছে কুশমণ্ডি ব্লকজুড়ে। শুধুমাত্র ওষুধের দোকান খোলা থাকলেও, বন্ধ ছিল হাটবাজার, মুদির দোকান প্রভৃতি।

লকডাউন অথচ চায়ের দোকানে বসে আড্ডা, বাড়ির সঙ্গে লাগানো চায়ের দোকান বলে পুলিশ কিছু বলবে না এমন সব ধারণা কিন্তু পালটে গেল শনিবার। চায়ের দোকান এদিন নিজ হাতে বন্ধ করে দেয় পুলিশ। দোকান, বাজারহাট কোনও কিছুই খোলেনি এদিন। কুশমণ্ডি থানার পুলিশের এই উদ্যোগে খুশি সাধারণ মানুষ। কুশমণ্ডি থানার আইসি মানবেন্দ্র সাহা বলেন, বৃহস্পতিবারের লকডাউনের চেয়ে শনিবারের লকডাউন ছিল আরও বেশি সর্বাত্মক। এদিনের লকডাউনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মিলেছে। ব্লকের আমিনপুর, কাটাসন, সরলা, দেহাবন্দ, কদমতলী, ডহরোল, ঝাপড়াগাছি, উষাহরণ, জামবাড়ি, নাহিট, পানিশালা, মঙ্গলপুর, রামপুর, মহিপাল, কাটাবাড়ি, উদয়পুর, আয়রা সহ সব জায়গায় ওষুদের দোকান ছাড়া সমস্ত দোকান বন্ধ ছিল। কোথাও কোনও বাজার বসতে দেখা যায়নি।

- Advertisement -

অন্যদিকে, এদিন সকাল থেকেই হরিরামপুর চৌরাস্তা সহ দেহাবন্দ, ইটাহার রোড, দৌলতপুর, ধূমষাদিঘি, গাজোল  ও একুশ মাইল যাওয়ার রাস্তায় পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার নেমে পড়ে। লকডাউন সর্বত্র ঠিক হচ্ছে কিনা তা দেখতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আইসি ও বিডিও। এক ব্যক্তিকে রাস্তায় খালি মুখে যেতে দেখে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন বিডিও। এরপর ওই ব্যক্তির কাছে থাকা মুখে মাস্ক পরান। মাস্ক না পরেই বাজারে আসার শাস্তিস্বরূপ ওই ব্যক্তিকে কান ধরে ওঠবস করান বিডিও। যদিও এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাননি।

তবে বিডিও বলেন, সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে সেই দিকে লক্ষ রেখে রাজ্য সরকার নতুন করে সম্পূর্ণ লকডাউন শুরু করেছে। সেই লকডাউন অমান্য করলে কাউকেই ছাড়া হবে না। বিশেষ প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে আসতে পারেন। কিন্তু মাস্ক না পরে বাজারে আসলে, আর তা প্রশাসনের নজরে পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইসি বলেন, দুএক জায়গায় ইচ্ছে করে লকডাউন ভাঙার প্রবণতা দেখা গেলেও লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা ধীরে ধীরে মানুষ বুঝতে পারছেন। আর সেই কারণেই লকডাউন সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।