১৮ বছরেও হয়নি মাস্টার প্ল্যান, সামান্য বৃষ্টিতেই ভাসে ধূপগুড়ি

173

সপ্তর্ষি সরকার,  ধূপগুড়ি :  ১৮ বছর সময়টা কম নয়। অথচ এতদিন হল পুরসভায় উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি বহু আলোচনাতেও আজও ধূপগুড়ি শহরের নিকাশির মাস্টার প্ল্যান তৈরি হয়নি। প্রথম দফা বাদ দিলে শেষ তিনটি পুর নির্বাচনেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতিকে নির্বাচনি ইস্তাহারে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই আশ্বাস স্রেফ ইস্তাহারেই থেকে গিয়েছে। আজও সামান্য বৃষ্টিতেই পুর এলাকার ১৬টির মধ্যে অন্তত ১০টি ওয়ার্ডের বেশ কিছু অংশ জলমগ্ন হয়। এনিয়ে পুরসভার বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের ক্ষোভ রয়েছে। অন্যদিকে, শহরের মূল বাণিজ্যিক অংশে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের হাতে থাকা অনেকটা এলাকায় জল দাঁড়ানোয় তাদের বিরুদ্ধে বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পুরসভার ক্ষোভ বাড়ছে। জেলা পরিষদ প্রতি বছর এই শহর থেকে মোটা টাকা রাজস্ব আদায় করলেও আখেরে পরিকাঠামো ও নিকাশির উন্নয়নে কোনও কাজ করে না বলে অভিযোগ।

ধূপগুড়ি পুরসভার উপপ্রধান রাজেশকুমার সিং বলেন, এই শহরের জন্য যেটুকু পরিকল্পিত কাজ হয়েছে তা গত আট বছরে দুটি বোর্ডই করেছে। পুরোটা না হলেও যতটা কাজ হয়েছে তা বাসিন্দারা জানেন। শহরের সমস্ত নর্দমার কাজ একবারে করা গেলে ভালো হত। কিন্তু তা করতে গেলে একবারে প্রচুর টাকার প্রয়োজন। জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, ধূপগুড়িতে আমাদের বড় বাজার তৈরির কাজ চলছে। এরপর আমরা বাজার ও জেলা পরিষদের অধীনস্থ এলাকার নিকাশি সমস্যা মেটানোর কাজ করব। সেক্ষেত্রে পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে কাজের বিষয়টিও দেখা হবে।

- Advertisement -

প্রতি বর্ষায় ধূপগুড়ি শহরের বুক চিরে যাওয়া বামনি ও কুমলাই এবং পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গিলান্ডি নদীকে ভিত্তি করে বিজ্ঞানসম্মত জলনিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা শোনা যায়। ২০০১ সালের জুলাইয়ে পুরসভা ঘোষিত হওয়ার পরের বছর প্রথম পুরবোর্ড গঠিত হয়। ধূপগুড়ি-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়ে এলাকা দুটিকে এক জায়গায় করে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। প্রথম পাঁচবছর কিছুটা বিচ্ছিন্নভাবেই গলিপথ ও নর্দমার নির্মাণকাজ চলার পর ২০০৭ সালে দ্বিতীয় পুরবোর্ড ক্ষমতায় আসার পর শহরের বিস্তারিত ম্যাপ ও পরিকাঠামোর মাস্টার প্ল্যান তৈরির উদ্যোগ শুরু হয়। পুরবোর্ডের তরফে সেই সময় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সাহায্য নেওয়া হয়। প্রায় দুই বছর সমীক্ষার পর ২০১০-১১ সালে শহরের পরিকাঠামো ম্যাপ তৈরি শেষ হলেও নিকাশি মাস্টার প্ল্যানের কাজ এগোয়নি। এর মধ্যে রাজ্যের ক্ষমতায় পরিবর্তনের পর ২০১২ সালে দুবারের বাম বোর্ডকে সরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। ওই সময়ে শহরের নিকাশি নিয়ে ফের ভাবনা শুরু হলেও তাতে কাজের কাজ সেভাবে কিছুই এগোয়নি। তবে সূত্রের খবর, সার্বিকভাবে মাস্টার প্ল্যান তৈরি না হলেও আট বছরে শহরের নিকাশি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট পুরসভার হাতে এসেছে। পুরসভার নিজস্ব পরিকাঠামো তথ্য অনুযায়ী, শহরের সুষ্ঠু জলনিকাশির জন্য ২০৬ কিলোমিটারের সামান্য কিছু বেশি এলাকাজুড়ে নর্দমা প্রয়োজন। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত শহরে মাত্র ৭৫ কিলোমিটার ড্রেন তৈরি হয়েছে। এই মাস্টার স্ট্যাটাস রিপোর্ট থেকেই শহরের নিকাশির বাস্তব চিত্রটা স্পষ্ট। এছাড়া, নর্দমার মাপ ও উচ্চতা সঠিক না হওয়ায় এলাকায় জল দাঁড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। শহরের কলেজ রোডে ড্রেন তৈরি হলেও সেখানে দুপাশের প্রায় কোনও ওয়ার্ডের জলই ফেলার ব্যবস্থা হয়নি। শহরের বুক চিরে যাওয়া এশিয়ান হাইওয়ের থেকে দুপাশের এলাকা অনেকটা নীচু হয়ে যাওয়ায় সেখানে জল জমে বলে অভিযোগ।

বিরোধী দলনেতা কৃষ্ণদেব রায় বলেন, কাউন্সিলার হিসেবে এ নিয়ে তিনটি পুরবোর্ডের পরিচালনা দেখছি। শহরের নিকাশির বিষয়টি বহুবার তুলে ধরেছি। কিন্তু সিপিএম ও তৃণমূল দুই-ই গতানুগতিকভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে। এর কুফল শহরবাসীকে ভুগতে হচ্ছে। প্রথম ১০ বছর শহরের পুরপ্রধানের দায়িত্ব সামলানো সত্যরঞ্জন ঘোষ বলেন, শহর তৈরির জন্য আমরা দুটি গ্রাম হাতে পেয়েছিলাম। প্রথম পাঁচ বছরে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ কিছুটা বিচ্ছিন্নভাবেই হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক পরিকাঠামো ম্যাপ তৈরির পর নিকাশি মাস্টার প্ল্যানের ভাবনা থাকলেও তা হয়ে ওঠেনি। তবে শহর যেভাবে বাড়ছে তাতে এটা খুবই প্রয়োজন।