নেই বার্ধক্য ভাতা-র‍্যাশন কার্ড, আধপেটা খেয়ে দিন চলছে বৃদ্ধ দম্পতির

164

রায়গঞ্জ: প্রায়দিন আধপেটা খেয়ে দিন পার করছেন রায়গঞ্জ শহরের এক বৃদ্ধ দম্পতি। আয় বলতে তাদের কিছুই নেই। পান না বার্ধক্য ভাতা। র‍্যাশন কার্ড না থাকায় জোটে না চাল। জমিজমা বিক্রি করে দেওয়ার পর মেয়ে ও জামাইয়ের বাড়িতে থাকেন তাঁরা। জামাই মিলন সরকার রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি সাধ্যমতো তাঁদের দুবেলা খাবার দেন। পাড়া পড়শিরা সুযোগ সুবিধা মতো মাঝেমধ্যে তাঁদের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন। কিন্তু প্রায়দিন পেট ভরে খেতে পারেন না। টাকার অভাবে চিকিৎসা পর্যন্ত করতে পারছেন না।

রায়গঞ্জ শহরের কলেজপাড়ায় পুরসভা পার্কের দক্ষিণ দিকে মিলন সরকারের বাড়ির এক কোনে থাকেন নারায়ন সাহা ও গীতা সাহা। বয়সের ভারে কানে শোনেন না। চলাফেরা করতেও পারেন না। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর সেখানেই থাকেন। তারাই দেখাশোনা করেন। কিন্তু সেভাবে রোজগার না থাকায় দুটি সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় জামাইকে।

- Advertisement -

গীতা ও নারায়ন জানান, আমাদের কিছু নেই। মেয়ে জামাই যা দেয় তাই খাই। বাড়ি বিক্রি করে জামাইকে দিয়েছি। জামাই যখন যেটা কাজ পায় সেটা করে। ওদের সংসার চলে না। স্থানীয় বাসিন্দা ভজন কর বলেন, ‘আমরা প্রায়দিন সাহায্য করি। প্রতিদিন তো সম্ভব হয় না। ওনাদের খাবারের খুবই অভাব। মেয়ে জামাই সাধ্যমতো দেন। বাড়িঘর বিক্রি করে জামাইকে দিয়েছে শুনেছি।’

বৃদ্ধ নারায়নবাবু ও বৃদ্ধা গীতাদেবী দুজনেই অসুস্থ। কিন্তু হাতে নগদ টাকা না থাকায় ডাক্তার দেখাতে পারেন না।তাই তাঁরা সাহায্যের জন্য কাতর আবেদন জানান। রায়গঞ্জ শহর লাগোয়া হলেও ওনারা থাকেন বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। পঞ্চায়েত থেকে তাদের মাঝেমধ্যে সাহায্য করেন। বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধনেশ্বর বর্মন বৃদ্ধ দম্পতিকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।