করোনার গ্রাস থেকে সুরক্ষিত বাহির চর

125

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের নন্দনপুর বোয়ালমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা তিস্তার বাহির চর এলাকায় প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস। করোনার কোপে যখন জলপাইগুড়ির বাসিন্দাদের অনেকেই ভুগছেন তখন আশ্চর্যজনকভাবে গতবার তো বটেই, এবারও এই এলাকার বাসিন্দাদের কারও মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণের কোনও লক্ষণই নেই। ম্যাজিক বলে মনে হচ্ছে? ম্যাজিক নয়, সবটাই বিজ্ঞান।

অতিমারি বা মহামারির দাপট রুখতে লকডাউনের জুড়ি নেই। বহু পুরানো অতীত তো বটেই, গোটা দেশ সম্প্রতি ফের তা উপলব্ধি করেছে। দেশজুড়ে করোনা-গ্রাফের ক্রমশ নিম্নমুখী হওয়াটাই এর প্রমাণ। নিজেরা সাবধানে থাকলে কী হয় তিস্তার বাহির চর এলাকার বাসিন্দারা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। বাইরের কারও এলাকায় ঢোকা বারণ। এলাকার যে কেউও ইচ্ছে করলে বাইরে যেতে পারবেন না। এভাবেই এখানে ভাইরাসের হানাদারিকে তাঁরা রুখে দিয়েছেন। কিন্তু এভাবে ঘরে বসে থাকলে তো রোজগারপাতি পুরো বন্ধ। উপায়? এলাকাবাসীরা সবজির পাশাপাশি দুধের ব্যবসা করেন। তাই বাসিন্দাদের একাংশ সবার হয়ে সবজি, দুধ নিয়ে বাজারে গিয়ে তা বিক্রি করে ফিরে আসেন। তাঁদের মাধ্যমেই অন্যরা টাকা পেয়ে যান। তবে যাঁরা বাইরে যান, তাঁরা অন্যদের সঙ্গে মেশার সুযোগ পান না। সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁদের গ্রামে ঢুকতে হয়। যতদিন ভাইরাসের দাপাদাপি চলবে ততদিন তাঁদের অলাদাভাবেই থাকতে হবে। এখনও পর্যন্ত এলাকায় কারও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়নি। কেনই বা হবে? কারও মধ্যেই তো সংক্রমণের কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি।

- Advertisement -

প্রায় আট কিলোমিটার লম্বা এবং চার-পাঁচ কিলোমিটার চওড়া এলাকাটি নন্দনপুর বোয়ালমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তিস্তার ২ নম্বর স্পার থেকে কোচবিহার জেলার ৪০ নিজতরফ এলাকা পর্যন্ত নদীর মাঝবরাবর ছড়িয়ে রয়েছে। পঞ্চায়েত সদস্য জিতেনচন্দ্র বিশ্বাসের কথায়, কৃষিকাজই এখানকার বাসিন্দাদের মূল জীবিকা। এখানকার উৎপাদিত সবজি প্রতিদিন শহরের পাইকারি বাজারে পৌঁছে দেওয়া হয়। খাটালে দুধ উৎপাদন হয়। করোনা ভাইরাস দিনকে দিন ভয়াবহ হচ্ছে। ওই ভাইরাস এখানে ছড়ালে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। এলাকাটি নদীর চর হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা দুর্গম। তাই আমরা নিজেদেরই সুবক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করেছি।

খুব প্রয়োজন না হলে কেউ গ্রামের বাইরে যাবেন না। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে বলে জিতেনবাবু জানান। তিনি বলেন, বাইরের কেউ, এমনকি আমাদের আত্মীয়স্বজনরাও এখন এখানে আসবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিদিনের উৎপাদিত সবজি, দুধ বাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন আছে। তাই নির্দিষ্টভাবে কয়েকজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা নির্দিষ্ট দূরত্ববিধি বজায় রেখে বাড়ি বাড়ি থেকে সবজি ও দুধ সংগ্রহ করে বাজার বা শহরের দোকানগুলিতে যাচ্ছেন। তাঁদের জন্য লোকালয়ে কিছুটা দূরে থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রামে ঢোকার পর তাঁরা এই চরে থাকছেন। এভাবেই তাঁরা ভাইরাসকে রুখে দিতে পারবেন বলে এলাকাবাসী নিমাই বিশ্বাস সহ সকলের দৃঢ় বিশ্বাস।