সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি : ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক বছর কেটে গেলেও জলপাইগুড়ি পুরসভা শহরে একটিও পার্কিং জোন তৈরি করতে পারেনি। এখনও শহরের যত্রতত্র অপরিকল্পতিভাবে গাড়ি ও বাইক পার্ক করা হচ্ছে। যার প্রভাবে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট হচ্ছে। এমনকি কোনো একটি পার্কিং জোনের পরিকাঠামো তৈরির কাজও শেষ হয়নি বলে পুরসভা সূত্রে খবর। তবে পুরকর্তারা জানিয়েছেন, পরিকাঠামোগত সমস্যা মিটিয়ে ওই পার্কিং জোনগুলিকে দ্রুত চালু করা হবে।

শহরের বাসিন্দা ও ট্রাফিক পুলিশের দাবি, জলপাইগুড়িতে পার্কিংয়ে জন্য নির্দিষ্ট স্থান না থাকাটা শহরে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। এমন পরিস্থিতিতে বাসিন্দারা রাস্তার উপর যানবাহন দাঁড় করিয়ে বাজার সহ নানা কাজে চলে যান। শহরের রাস্তাগুলি প্রয়োজনের তুলনায় সংকীর্ণ হওয়ায় এমনই যাতায়াতে সমস্যা হয়। তার উপর রাস্তার একটা অংশ বাইক, গাড়ির দখলে চলে যাওয়ায় সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করে। শহরের মার্চেন্ট রোড, কদমতলা ও দিনবাজার এলাকায় যানজট সবচেয়ে বেশি হয় বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এই এলাকাগুলিতে বাজার, ব্যাংক সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকায় জনসমাগম একটু বেশিই হয়। কিন্তু এই এলাকাগুলিতে গাড়ি রাখার কোনো নির্দিষ্ট এলাকা নেই। একইভাবে কদমতলা এলাকায় কয়েকটি শপিং মল তৈরি হলেও তাদের নিজস্ব কোনো পার্কিং জোন নেই। ফলে শপিং মলগুলিতে আসা মানুষও রাস্তার পাশেই গাড়ি, বাইক রাখেন।

বছরখানেক আগে পুরসভার তরফে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পার্কিং জোন তৈরির প্রকল্প নেওয়া হয়। এই বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে পুর কর্তৃপক্ষের দফায় দফায় বৈঠকও হয়। এরপর পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে শহরে স্থায়ী পার্কিং জোন তৈরির জন্য ১১টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়। জানা গিয়েছে, পুর কর্তৃপক্ষ ওই এলাকাগুলিতে পার্কিংয়ের পরিকাঠামো তৈরি করে তা ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। চিহ্নিত করা জায়গাগুলোর মধ্যে সেই সময় সমাজপাড়া মোড়, ডিবিসি রোডে এসি কলেজ অফ কমার্সের উলটোদিকের অংশের কথা বলা হয়েছিল। ঠিক হয় এই এলাকাগুলিতে রাস্তার পাশে ড্রেনের ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব তৈরি করে পার্কিং জোন করা হবে। এমনকি কদমতলা মোড়, দিনবাজার এলাকাতেও বেশ কয়েকটি স্থান পার্কিং জোনের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুরসভার উদ্যোগ এখনও পরিকল্পনাস্তরে রয়েছে বলেই নাগরিকদের অভিযোগ।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষক পার্থ বিশ্বাস বলেন, পুরসভা প্রতিশ্রুতি দিলেও সবসময় তা যে পূরণ হয় না, শহরে পার্কিং জোন তৈরির প্রকল্প তার উদাহরণ। একবছর আগে থেকে শুনে আসছি শহরের বিভিন্ন জায়গায় পার্কিং জোন তৈরি হবে। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পার্কিং জোন না থাকা শহরের যানজট সমস্যার অন্যতম কারণ বলে আমার মনে হয়। পড়ুয়া সুপ্রতিম ধরের বক্তব্য, শহরের যানবাহন চলাচলকে একটা পদ্ধতিতে বাঁধতে হলে পার্কিং জোন থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিনই শহরের দুচাকা, চারচাকার যানবাহন বাড়ছে। কিন্তু সেগুলোকে রাস্তার ওপর দাঁড় করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমি মনে করি পুরসভার বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত।

বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ (পূর্ত) সন্দীপ মাহাতো বলেন, পার্কিং জোনের সমস্যা শহরে রয়েছে এটা ঠিক। আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই চেষ্টা করছি কয়েটি জায়গাকে পার্কিং জোন হিসেবে গড়ে তোলার। চিহ্নিত জায়গাগুলোর পরিকাঠামো তৈরিতে একটু সমস্যা তৈরি হওয়াতে সেগুলো সময়মতো চালু করা যায়নি। আমরা শীঘ্রই জায়গাগুলোর পরিকাঠামোগত সমস্যা মিটিয়ে পার্কিং জোনগুলো চালু করে দেব। অন্যদিকে পুলিশ সুপার অভিষেক মোদী বলেন, শহরের পার্কিং জোনের বিষয়ে পুরসভা ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। এই বিষয়টি নিয়ে আবারও আমরা পুলিশের তরফে পুরসভার সঙ্গে আলোচনায় বসব।