হরিশ্চন্দ্রপুরে যাত্রী প্রতীক্ষালয় না থাকায় সমস্যা

দেবদুলাল সাহা, হরিশ্চন্দ্রপুর : উত্তর মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সেখানে কোনো যাত্রী প্রতীক্ষালয় না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকার নিত্যযাত্রী সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। শুধু জাতীয় সড়কই নয়, তুলসীহাটা থেকে কুশিধা, বাংরুয়া ব্রিজ থেকে হরিশ্চন্দ্রপুর রাজ্য সড়কগুলির বাস স্টপেজেও কোনো যাত্রী প্রতীক্ষালয় নেই। ফলে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষায় রোদ, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাস ধরতে হয় যাত্রীদের। অভিযোগ, এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই।

৮১ নম্বর জাতীয় সড়কটি চাঁচল-হরিশ্চন্দ্রপুর হয়ে বিহারের কাটিহারের সঙ্গে মিশেছে। প্রতিদিন বিহার ও বাংলার হাজার হাজার যাত্রী ওই রুটে সড়কপথে যাতায়াত করেন। অথচ যাত্রীদের বসার বা মাথা গোঁজার জন্য কোনো প্রতীক্ষালয় নেই। বিশেষ করে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের কনুয়া ভবানীপুর, লক্ষ্মণপুর, বাংরুয়া, ভবানীপুর ব্রিজ, হরিশ্চন্দ্রপুরে বাস স্টপেজ থাকলেও কোনো যাত্রী প্রতীক্ষালয় নেই। অন্যদিকে তুলসীহাটা থেকে কুশিধা রাজ্য সড়কে মারাডাঙ্গি, তুলসীহাটা, কুশিধা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী প্রতীক্ষালয় নেই। শুধু তাই নয়, বাংরুয়া ব্রিজ থেকে হরিশ্চন্দ্রপুর য়াওয়ার পথে একাধিক বাস স্টপেজ থাকলেও সেই রুটে কোনো যাত্রী প্রতীক্ষালয় নেই। ওই সমস্ত স্টপেজে শুধু যাত্রী প্রতীক্ষালয় নয়, যাত্রীদের জন্য পানীয় জল পরিসেবা কিংবা শৌচালয় কিছুই নেই। এর ফলে ওই সমস্ত বাসস্ট্যান্ড থেকে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জন্য বাস ধরতে গেলে চরম সংকটে পড়তে হয় নিত্যযাত্রী সহ স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের।

- Advertisement -

হরিশ্চন্দ্রপুর, তুলসীহাটা, কুশিধা এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বাম আমলে তৈরি দুএকটি জায়গায় ভাঙা ও জরাজীর্ণ প্রতীক্ষালয় পড়ে থাকলেও অবৈধভাবে সেসবের দখল নিয়েছে স্থানীয় চা কিংবা ঝালমুড়ির দোকানদাররা। বাসস্ট্যান্ডগুলিতে যাত্রীদের শৌচালয় ও পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থাও নেই। পঞ্চায়েত কিংবা ব্লক প্রশাসনের এনিয়ে কোনো হেলদোলও নেই। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার রামশিমুল গ্রামের বাসিন্দা মুজিবর রহমান, কামালুদ্দিনদের অভিযোগ, তুলসীহাটা-কুশিধা রাজ্য সড়কের মারাডাঙ্গিতে পানীয় জল ও শৌচালয় সহ একটি অত্যাধুনিক যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে প্রয়োজন। কারণ, প্রতিদিন ওই স্টপেজ থেকে শয়ে শয়ে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীর পাশাপাশি নিত্যযাত্রীরা বাস ধরার জন্য অপেক্ষা করেন। যাত্রী প্রতীক্ষালয় না থাকায় বৃষ্টিতে ভিজে ও প্রখর রোদে ঠায় দাঁড়িয়ে বাসের জন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হয়। এবিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলেও কোনো লাভ হয়নি।

হরিশ্চন্দ্রপুরের বিভিন্ন বাসস্টপে যাত্রী প্রতীক্ষালয় অত্যন্ত জরুরি বলে স্বীকার করেছেন হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সহসভাপতি রুহুল আমিন। তিনি বলেন, হরিশ্চন্দ্রপুরে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক বা রাজ্য সড়ক সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডগুলিতে একটিও যাত্রী প্রতীক্ষালয় নেই। এমনকি যাত্রীদের জন্য শৌচালয় ও পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থাও নেই। অধিকাংশ বাসস্ট্যান্ডে বাস ধরতে গিয়ে চরম সংকটে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ব্লক প্রশাসন ও জেলাপরিষদের সভাধিপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। প্রশাসনের তরফে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস মিলেছে। আমরা চাই হরিশ্চন্দ্রপুরের বাসস্ট্যান্ডগুলিতে অত্যাধুনিক যাত্রী প্রতীক্ষালয় নির্মাণ করা হোক। নইলে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।

হরিশ্চন্দ্রপুর-১’এর বিডিও অনির্বাণ বসু হরিশ্চন্দ্রপুরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ছটপুজোর পর থেকে ব্লকের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় দ্রুত যাত্রী প্রতীক্ষালয় নির্মাণ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। শুধু এলাকায় রাস্তা করলেই চলবে না, রাস্তার পাশাপাশি যাত্রী প্রতীক্ষালয়েও প্রয়োজন আছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের ফর্টিনথ্ ফিনান্সের ফান্ড থেকে এগুলি করা যাবে। এই সমস্যার য়াতে দ্রুত সমাধান করা যায় তার জন্য প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।