ঝান্ডা হাতে দৌড়ে বেড়ানো রামবিলাস এখন নেতাদের কাছে ব্রাত্য

92

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : বছরতিনেক আগের দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটের রামবিলাস পাসোয়ানের জীবন। সেসময় মাল নামাতে গিয়ে মালবোঝাই গাড়ির চাকা রামবিলাসের কাঁধে উঠে যায়। ওই দুর্ঘটনার পর থেকে এক সময়ে নানা কর্মসূচির মুখ রামবিলাস এখন ইউনিয়ন থেকে ব্রাত্য। কোনও দাদা তাঁর পাশে নেই। দুবছর থেকে ভোটও দেন না। নির্বাচনি প্রচারেও যান না।

তাই মার্কেটে আড়তদারদের ফেলে রাখা ফল, সবজি কুড়িয়ে সেটা বিক্রি করে পেটের ভাত জোগাড় করেন তিনি। এক সময়ে যে কোনও কর্মসূচিতে থাকা রামবিলাসের মনে আগের মতো রাজনীতি নিয়ে আর কোনও উৎসাহ নেই। পেটের জ্বালা মেটানোর রসদ খুঁজতে গিয়ে সারাদিন কেটে যায় তাঁর। সংসার চালাতে রেগুলেটেড মার্কেটই ধ্যান-জ্ঞান রামবিলাস পাসোয়ানের। একসময়ে ভোর থেকে লেগে পড়তেন মালপত্র লোডিং-আনলোডিং এর কাজে। কাজের মধ্যেই ইউনিয়নের দাদাদের ডাকে ঝান্ডা কাঁধে ছুটে পড়তেন তিনি। ভোট এলে নির্বাচনি প্রচারের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যেত। তবে এখন সেসব অতীত।

- Advertisement -

পেশার টানে রামবিলাস পাসোয়ানের পরিবারের সঙ্গে শিলিগুড়ির সম্পর্কটা বহু পুরোনো। একসময়ে বিহারের বাসিন্দা রামবিলাসের বাবা রিকশা চালানোর পেশাকে আঁকড়ে ধরে শিলিগুড়িতে থাকা শুরু করেন। রামবিলাসের জন্ম শিলিগুড়িতে। বাবা গৈনি পাসোয়ানের পেশাকে আঁকড়ে ধরেন তিনি। রিকশা চালানোর সূত্র ধরে রেগুলেটেড মার্কেটে তাঁর যাওয়া-আসা শুরু। ধীরে ধীরে অর্থ উপার্জনের আশায় মাল ওঠানো-নামানোর কাজে জুটে পড়েন।  একসময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন চেনা মুখ। সময়ে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়ে রেগুলেটেড মার্কেট দখল নেয় তৃণমূল নিয়ন্ত্রাধীন ইউনিয়ন। তিনিও তৃণমূল শ্রমিক ইউনিয়নে যোগ দেন।

রেগুলেটেড মার্কেটে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রথমে বাম, পরবর্তীতে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অন্যতম চেনা মুখ রামবিলাস এখন আড়তদারদের ফেলে দেওয়া সবজি, ফল বিক্রি করে জীবনের রসদ খোঁজেন। তিনি বলেন, দুই ছেলে একসঙ্গে থাকলেও আমাকে ও আমার স্ত্রীকে কোনও সহযোগিতা করে না। একসময়ে শ্রমিক হলেও আড়তদাররাও আর এখন গুরুত্ব দেন না। গত দুবছর ধরে ভোট দিতেও যাই না। দুর্ঘটনার পর কেউ আর খোঁজ রাখে না। দুঃখ হলেও এখনও পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ে। কিন্তু আমি এখন ওই নেতাদের কাছে ব্রাত্য।