মমতার ঘোষণা করা প্রকল্প বিশবাঁও জলে

378

চাঁদকুমার বড়াল  কোচবিহার : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহারের জন্য একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ঘোষণার কয়েক বছরে তার মধ্যে কিছু কাজ এগোয়নি। চকচকায় নতুন শিল্প বিশবাঁও জলে। হেরিটেজ কোচবিহারের ঘোষণা কবে হবে তা কেউই জানেন না। সেই কাজ মাঝপথে আটকে রয়েছে। গ্রিন সিটি কোচবিহারের কাজ কী হল সে প্রশ্ন উঠছে। দিনহাটায় উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় বহুমুখী হিমঘর প্রকল্পও ঠান্ডাঘরে চলে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গে সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবার তিনি উত্তরবঙ্গ সফরে এলে নতুন কিছু ঘোষণা করেন। এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর কোচবিহার সফরের সময় বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সেইমতো পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। কিন্তু, বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ মাঝপথে থমকে গিয়েছে।

কোচবিহার শহর লাগোয়া চকচকায় জুটপার্কের জমিতে সাধারণ শিল্প করার জন্য শিল্পপতিদের জমি দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী এখানে শিল্পস্থাপনের জন্য শিল্পপতিদের এগিয়ে আসার আহ্বান করেছিলেন। এই প্রকল্পে সবরকম সহযোগিতা করার জন্য রাজ্য শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগমকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে এই প্রকল্পের ঘোষণা হলেও তিন বছর পেরিয়ে গিয়েছে। সেখানে যে ২১ জন জমি নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে মাত্র দুজন পরিকাঠামোর কাজ করেছেন। কিছু সীমানাপ্রাচীর হয়েছে। এখন শিল্প করার জন্য আরও দুই বছর সময় চাইছেন উদ্যোগীরা। তখন কোচবিহার শহরকে হেরিটেজ ঘোষণার কথাও বলা হয়েছিল। তারপর খড়্গপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞরা কোচবিহারে কাজ করেছেন। ১৫৫টি স্থাপত্যকে নিয়ে তালিকা হয়েছে। কমিটি হয়েছে। কিন্তু হেরিটেজ ঘোষণা হওয়া বা হেরিটেজের অঙ্গ হিসেবে যে কাজগুলি হওয়ার কথা ছিল তা কিছুই হয়নি। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, হেরিটেজ ঘোষণার জন্য বেশ কিছু আইনে সংশোধন করতে হবে। বিধানসভায় সেই ফাইল আটকে রয়েছে।

- Advertisement -

এদিকে গ্রিন সিটি হওয়ার কথা কোচবিহারের। তাতে আধুনিক নর্দমা সহ অনেক কাজের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই প্রকল্পেরও কী হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দিনহাটার কৃষি মেলা প্রাঙ্গণে একটি বহুমুখী হিমঘরের জন্য জমি বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহনা চলছে। উদ্যোগীদের অভিযোগ, কলকাতায় ফাইল আটকে রয়েছে। তাই তাঁরা এখন প্রকল্প নিয়ে উৎসাহী নন। ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে আসছেন। তার আগে এই প্রকল্পগুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলছেন, সরকার জমি দিয়েছে। সব সহযোগিতা করছে। শিল্প করার কাজ শিল্পপতিদের। হেরিটেজ ঘোষণা নিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রের কিছু অনুমোদনের জন্য কাজ আটকে রয়েছে। দিনহাটায় বহুমুখী হিমঘরের ফাইল কেন কলকাতায় আটকে রয়েছে সে ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।