বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি : পানীয় জলের পাম্প বিকল হওয়ায় ময়নাগুড়ির খাগড়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দারা কুয়োর জল পান করছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে পরিস্রুত জল না পেয়ে ওই এলাকার প্রায় ১৮ হাজার বাসিন্দা ক্ষুব্ধ। তাঁদের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি ও সরকার পরিবর্তন হলেও তাঁদের অবস্থার বদল হয় না। যদিও কেন ওই পাম্প সারাই করা হচ্ছে না, স্থানীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা তা নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছুই জানাতে পারেননি। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিস সরকার বলেন, বিষয়টি আগে জানতাম না। যেহেতু খোঁজ পেলাম, অবশ্যই দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ময়নাগুড়ি বিডিও অফিসের উলটো দিকে মধ্য খাগড়াবাড়িতে একটি পানীয় জলপ্রকল্পের পাম্প হাউস রয়েছে। এখান থেকে উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ খাগড়াবাড়ি মৌজায় পরিস্রুত পানীয় জল পরিসেবা দেওয়ার কথা। ২০০৫ সালে এই পাম্পটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই পাম্পটি পুরোপুরি বিকল হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এখান থেকে দীর্ঘদিন ধরেই পরিস্রুত পানীয় জল পরিসেবা দেওয়া হয় না। আগে যে জল পাওয়া যেত, তা ঘোলা হওয়ায় পান করা যেত না। এখন অবশ্য সেটাও মিলছে না। স্থানীয় বাসিন্দা মণি মহম্মদ বলেন, উদ্বোধনের পর থেকেই পানযোগ্য জল মেলেনি। এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সংকট রয়েছে। মিনতি রায় বলেন, আমাদের ভাত খাবার টাকা জোটে না। কিন্তু পানীয় জল এখন কিনে পান করতে হয়। ইসমাইল মহম্মদ বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘসময় কেটে গেলেও ইতিবাচক পদক্ষেপ করা হয়নি।

- Advertisement -

স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মিতু চক্রবর্তী বলেন, তিনটি মৌজার প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পরিস্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। উদ্বোধনের পর কিছুদিন জল মিলেছে। তবে ঘোলা জল মিলত। এরপর পাম্পটি বিকল হয়ে যায়। কিন্তু তা মেরামতির জন্য কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। খাগড়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সীমা রায় বলেন, বামফ্রন্টের আমলের এই প্রকল্পটির কাজ যথাযথভাবে হয়নি। তাই উদ্বোধনের সময় থেকেই পাম্পটি এলাকার মানুষের কোনো কাজে আসেনি। তবে আমরা এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার জানিয়েছি। মধ্য খাগড়াবাড়ির তৃণমূল নেতা গণেশ রায় বলেন, তিনটি মৌজাতেই পানীয় জলের সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই জলপ্রকল্প বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই। অন্যদিকে, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের কথা শোনাচ্ছেন। ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি ঝুলন সান্যাল এই বিষয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন।