জেলায় নেই রেক পয়েন্ট, বাড়তি কড়ি গুনে সার বহনে সমস্যা জলপাইগুড়িতে

344

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : জেলা ভাগে জলপাইগুড়ির প্রান্তিক ছোটো সার ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। জেলায় সার নামানোর কোনো রেক পয়েন্ট না থাকায় পরিবহণের খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। যার আঁচ এসে পড়ছে কৃষকদের গায়ে।

জলপাইগুড়ি জেলায় দেড় লক্ষ হেক্টর কৃষিজমি ছাড়াও রয়েছে প্রায় এক লক্ষ হেক্টরের চা বাগান। রবি ও খরিফ দুই ধরনের ফসলের জন্য প্রতি বছর তিন লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি পরিমাণ রাসায়নিক ও জৈব সার প্রযোজন হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই সার ট্রেনে করে পৌঁছায়। কিন্তু জেলা ভাগের পর জলপাইগুড়ি জেলায় নিজস্ব রেক পয়েন্ট না থাকায় ভিনরাজ্য থেকে আসা সার নামাতে হয় আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা অথবা দার্জিলিং জেলার রাঙ্গাপানিতে। সেখান থেকে জেলার ব্যবসায়ীদের সার নিয়ে আসতে হয়। এর ফলে যে অতিরিক্ত পরিবহণ খরচ হয়, তাতে সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করা দায় হযে পড়ে ছোটো ব্যবসায়ীদের। চাহিদা যখন তুঙ্গে থাকে, তখন অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ থেকে বাঁচতে অনেকেই ভিনরাজ্য থেকে সার বিক্রি বন্ধ রাখেন। যার জেরে সমস্যায় পড়তে হয় কৃষকদের। বড়ো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে সার নিতে বাধ্য হন কৃষকরা।

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ী সমিতির জেলা সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ চাকি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই ধূপগুড়িতে সারের রেক পয়েন্ট চালুর ব্যবস্থা করতে কৃষি দপ্তর, রেলমন্ত্রক, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার কাছে দাবি জানিযে আসছি। বর্তমানে জেলার সার ব্যবসায়ীদের রাঙ্গাপানি অথবা ফালাকাটা থেকে সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।’ ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এমআরপিতে সার বিক্রি করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হযে দাঁড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, বিদেশ থেকে আমদানি করা এবং ভরতুকিযুক্ত পণ্য হওয়ার সুবাদে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী যেকোনো রেলস্টেশনে রাসায়নিক সার নামানো যায় না। কোনো স্টেশনের রেক পয়েন্টে সার নামাতে হলে সেই স্টেশনকে কেন্দ্রীয় সার ও রসায়ন মন্ত্রকের অধীনে ফার্টিলাইজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এফএমএস-এর অন্তর্ভুক্ত হতে হয়। ২০১৪ সালে জেলা ভাগের পর গত পাঁচ বছরেও জলপাইগুড়ির কোনো স্টেশনকে কেন্দ্রীয় এফএমএস পোর্টালে শামিল করা হয়নি। যদিও জেলা কৃষি দপ্তরের তরফে এবিষযে নির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জেলার সহকৃষি অধিকর্তা (শস্য সুরক্ষা) প্রিয়নাথ দাস বলেন, আমাদের জেলায় কৃষি ও চা বাগান মিলে প্রতি বছর বিশাল পরিমাণ সারের প্রয়োজন হয়। এই কারণে গড়ে প্রতি তিনদিনে একটি করে রেক বোঝাই রাসায়নিক ও জৈব সার প্রযোজন হয়। জেলার বর্তমান প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে একটি রেলস্টেশনও কেন্দ্রীয় পোর্টালে নথিভুক্ত না থাকায় বেশ কিছু সমস্যা হয়। এজন্য জেলার কৃষিজমি এবং স্টেশনগুলির অবস্থানগত দূরত্ব হিসেব করে ধূপগুড়ি রেলস্টেশনকে কেন্দ্রীয় ফার্টিলাইজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। তবে কেন্দ্রীয় কৃষি দপ্তর থেকে এবিষয়ে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। এবিষয়ে জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায় বলেন, কৃষি ও চা বাগান ভিত্তিক আমাদের জেলার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এত বছর কেন সরাসরি আমাদের জেলায় সার আনলোডের ব্যবস্থা নিয়ে পদক্ষেপ করা হয়নি তা ভেবেই আশ্চর্য হচ্ছি। আমি এবিষয়ে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করছি। আমাদের জেলায় সার পৌঁছানোর বিষয়ে সচেষ্ট হব।