বিজেপির পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি: রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়

914

বর্ধমান: বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন সাত জন। ধৃতরা যদিও এদিন দাবি করেন, তাঁরা কেউ দলের পার্টি অফিসে হামলা ভাঙচুর চালানোর ঘটনায় জড়িত নন। তাদের দাবি তাঁরা বিজেপি ও আরএসএসের পুরোনো কর্মী। বর্ধমান থানার পুলিশ সাত ধৃতকেই শুক্রবার পেশ করে বর্ধমান আদালতে। বিচারকের নির্দেশে সাত ধৃতকেই এদিন জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। জামিন মঞ্জুর হবার পর আদালত চত্বরেই এদিন জেলা বিজেপির বর্তমান সভাপতি সন্দীপ নন্দী ও বর্তমান জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ক্ষোভ উগরে দেন ধৃতরা।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দেবজ্যোতি সিংহ রায় এদিন দাবি করেন, তিনি আরএসএসের পুরোনো কর্মী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘পূর্ব বর্ধমান জেলায় বিজেপি পার্টিটা এখন তৃণমূল ‘টু’ তে পরিণত হয়েছে। ব্রাত্য হয়ে গিয়েছে বিজেপির পুরোনো কর্মীরা। দেবজ্যোতি এদিন বলেন, ‘দলের বিষয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার তাঁরা ৫-৬টি বিধানসভার কর্মীরা বর্ধমানের পার্টি অফিসে হাজির হয়েছিলেন। সবাই পার্টি অফিসের ভিতরেও যায়নি। আলোচনায় কি উঠে আসে তা জানার জন্য বেশিরভাগ কর্মীরাই অফিসের বাইরে অপেক্ষা করছিল। তাঁরা কেউ পার্টি অফিসে ভাঙচুর করেননি।‘

- Advertisement -

দেবজ্যোতিবাবুর অভিযোগ, আলোচনার নামে পার্টি অফিসে তাঁদের চারঘন্টা আটকে রেখে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে। এই ঘটনা জানতে পেরে পার্টি অফিসের বাইরে থাকা কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। তখনই পার্টি অফিসের ছাদ থেকে তাদের উপর ঢিল-পাথর মারা শুরু হয় বলে দেবজ্যোতি সিংহ রায় অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে, রাঢ়বঙ্গের বিজেপি পর্যবেক্ষক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মেমারিতে দলের মিছিলে যোগ দিয়ে দাবি করেন, তাঁদের পার্টি অফিসে হামলার গোটা ঘটনাটাই তৃণমূল প্ল্যান করে করিয়েছে। এখন পুলিশ আর তৃণমূল আলাদা কিছু নয়। তাই পুলিশ বিজেপির কিছু কার্যকর্তাকে গ্রেপ্তার করে ঘটনা বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে দেখাতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রের এই নোংরা খেলার অংশিদার পুলিশ। যারা প্রকৃত গণ্ডগোল করেছে তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বর্ধমানের ঘোড়দৌড়চটির জেলা বিজেপির পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে দলে বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে। পাল্টা হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে অফিসিয়াল গোষ্ঠীর দিকেও। গাড়িতে আগুন লাগানোর পাশাপাশি পার্টি অফিসের সামনে থাকা একাধীক বাইকে ভাঙচুর চলে। জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দিকেও মারধোর করে আহত করার অভিযোগ ওঠে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এই সবের জেরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ঘোড়দৌড়চটি এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ কর্মীরাও আক্রান্ত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির এই গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা অবাক করেছে বাংলার রাজনৈতিক মহলকে।