স্বাধীনতার পর সাত দশকেও পাকা হয়নি রাস্তা

418

বিপ্লব হালদার  গঙ্গারামপুর : স্বাধীনতার পর কেটে গিয়েছে প্রায় সাত দশকের বেশি সময়। কিন্তু গঙ্গারামপুর ব্লকের জাহাঙ্গিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাহুর কিসমত গ্রামের রাস্তার হাল ফেরেনি এখনও। এখনও পাকা রাস্তার মুখ দেখেননি গ্রামবাসীরা। বহু আবেদন-নিবেদন করেও  রাস্তাটি থেকে গিয়েছে সেই তিমিরেই। প্রায় সারাবছর ধরেই বেহাল রাস্তার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হলেও বর্ষার মরশুমে রাস্তায় চলাচল করা দায় হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সমস্যা মেটানোর দাবিতে স্বাভাবিকভাবেই সরব হয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

গঙ্গারামপুর-হামজাপুর রুটের পাকা সড়ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে রয়েছে মাহুর কিসমতদাপট গ্রাম। কয়েক হাজার মানুষের বাস এই গ্রামে। রয়েছে একটি এমএসকে। এই গ্রামের মানুষের য়াতায়াতের রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। অথচ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন মাহুর কিসমতদাপট ছাড়াও সুকদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোড়ল, নওদাপাড়া, দেবীপুর গ্রামের কয়েকশো মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে থাকেন। অভিযোগ, রাস্তাটি মাটির হওয়ার কারণে প্রায় সারাবছর ধরে ধুলো জমে থাকে। সেই ধুলোর মধ্যে দিয়ে সকলে চলাফেরা করে থাকেন। বর্ষাকালে রাস্তায় জল জমে তৈরি হয় কাদা।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা রাজীব রায়, তপন সরকার, অনিতা রায় সহ আরও অনেকে বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি জলকাদায় পরিণত হয়। হাঁটা য়ায় না। রাস্তায় কোনো গাড়ি যানবাহন ঢুকতে পারে না। মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে গ্রাম থেকে পাকা রাস্তা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার পাঁজাকোলা করে নিয়ে যেতে হয়। ছেলেমেযো স্কুলে যেতে পারে না। রাস্তাটি পাকা করার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ব্লক প্রশাসনে জানানো হয়েছে। কিন্তু রাস্তা পাকা করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এলাকার শিক্ষিকা বন্দনা দাস বলেন, ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে চাকরি করছি। প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে কাদা থাকায় স্কুলে য়েতে ভীষণ সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরিও হয়ে যায়। রাস্তাটি পাকা হলে এলাকার মানুষের খুব উপকার হত। এবিষয়ে গঙ্গারামপুর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাস্তাটি যাতে পাকা করা য়ায়, তার জন্য জাহাঙ্গিরপুর অঞ্চলের প্রধানের সঙ্গে কথা বলা হবে।